৩১০ কোটি রুপি ছাড়াল ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’, নিভিন পাউলির ক্যারিয়ারে নতুন রেকর্ড

Pinky Saha Pinky Saha ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ AM BST ২০৪ বার পঠিত
৩১০ কোটি রুপি ছাড়াল ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’, নিভিন পাউলির ক্যারিয়ারে নতুন রেকর্ড

Photo Collected

মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহেও বক্স অফিসে দাপট ধরে রেখেছে মালয়ালম সিনেমা ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’। ভারতীয় বক্স অফিসের হিসাব দেওয়া প্রতিষ্ঠান স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতে ছবিটির নেট আয় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ রুপি। এতে দেশটিতে সিনেমাটির মোট নেট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ রুপি। বিদেশের বাজার থেকে এসেছে আরও ১৩৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ৩১০ কোটি ৫৫ লাখ রুপি।

চতুর্থ সপ্তাহেও দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখায় ছবিটির আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর ছবিটি আয় করে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। পরদিন আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ রুপিতে। রোববার সবচেয়ে ভালো ব্যবসা করে আয় হয় ৪ কোটি ৬০ লাখ রুপি। এরপর সোমবার ২ কোটি ১০ লাখ এবং মঙ্গলবার ১ কোটি ৪০ লাখ রুপি আয় করে সিনেমাটি।

মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ছবিটির আয় ছিল ৫২ কোটি ৩০ লাখ রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪৯ কোটি ৮৫ লাখ এবং তৃতীয় সপ্তাহে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ রুপি আয় করে এটি। সিনেমাটির সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে মালয়ালম সংস্করণ। এ সংস্করণ থেকে এখন পর্যন্ত আয় হয়েছে ১৪৩ কোটি ২৫ লাখ রুপি। পাশাপাশি তেলুগু সংস্করণ থেকে ৩ কোটি ৫২ লাখ এবং তামিল সংস্করণ থেকে ৩ কোটি ১৩ লাখ রুপি এসেছে।

এর আগে বিশ্বব্যাপী আয়ের হিসাবে ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’-কে পেছনে ফেলে দেয় ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত হয়েছে। ফলে বর্তমান আয় নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে সিনেমাটি অভিনেতা নিভিন পাউলির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বক্স অফিস সাফল্য হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে।

ছবিটির সাফল্যের পেছনে পরিবারের দর্শকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন নিভিন পাউলি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হিট। পুরো অভিনয় ও নির্মাণ দলের পাশাপাশি পরিচালক গিরিশ এ ডির অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

গিরিশ এ ডি পরিচালিত সিনেমাটির গল্প অ্যাশলি নামের এক তরুণী ও তাঁর বয়সে বড় প্রতিবেশী জাস্টিনকে ঘিরে। বয়সের ব্যবধান থাকা এই দুজনের প্রেমের গল্পে যুক্ত হয়েছে হাস্যরস, আবেগ ও পারিবারিক টানাপোড়েন। প্রচলিত রোমান্টিক সিনেমার মতো নায়ককে সব সময় আত্মবিশ্বাসী বা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং তাঁর দ্বিধা, অস্বস্তি ও সাধারণ মানুষের মতো আচরণ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

পরিচালক গিরিশ এ ডির আগের সিনেমা ‘থান্নির মাথান দিনাঙ্গাল’, ‘সুপার শরন্যা’ ও ‘প্রেমালু’-তেও পরিচিত জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্র ও পরিস্থিতির মাধ্যমে হাস্যরস তুলে ধরা হয়েছিল। ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’-এও সেই নির্মাণশৈলীর প্রতিফলন দেখা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিভিন পাউলি ও মামিথা বাইজুর সঙ্গে সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন সংগীত প্রতাপ, সুরেশ কৃষ্ণ, বিনয় ফোর্ট, রোশন শানাভাস ও শ্যাম মোহন। প্রযোজনায় রয়েছেন দিলীশ পোথান, ফাহাদ ফাসিল ও শ্যাম পুষ্করণ। ভবনা স্টুডিওসের ব্যানারে নির্মিত ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন বিষ্ণু বিজয়। চিত্রগ্রহণে ছিলেন অজমল সাবু এবং সম্পাদনায় আকাশ জোসেফ ভার্গিস।

মালয়ালম ভাষাভাষী প্রবাসী দর্শকদের কাছেও সিনেমাটির পরিচিত পরিবেশ, পারিবারিক সম্পর্ক ও রসবোধ বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তামিল ও তেলুগু সংস্করণ ছবিটিকে আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তবে অভিনয়, নির্মাণশৈলী, মুক্তির সময় ও দর্শকের প্রতিক্রিয়াসহ একাধিক বিষয় সিনেমাটির বক্স অফিস সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে, চতুর্থ সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী ৩১০ কোটি রুপির বেশি আয় করে ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’ মালয়ালম সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যের আলোচনায় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ছবিটি নিভিন পাউলির ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: