ছবি: সংগৃহীত
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। মুম্বাই হাইকোর্টের নির্দেশের পর ২০২০ সালের এই মৃত্যুর ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।
দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, দিশাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রক্ষায় ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন তদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ের মালাড এলাকায় একটি আবাসিক ভবন থেকে পড়ে ২৮ বছর বয়সী দিশার মৃত্যু হয়। তিনি সুশান্ত সিং রাজপুতের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছিলেন। এর মাত্র ছয় দিন পর ১৪ জুন সুশান্তেরও মৃত্যু হয়। দুই ঘটনার সময়ের কাছাকাছি হওয়ায় দিশার মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
দিশার মৃত্যুর পর মুম্বাই পুলিশ প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করে এবং পরবর্তী তদন্তে আত্মহত্যার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। পরে মহারাষ্ট্র সরকার গঠিত বিশেষ তদন্ত দলও মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ষড়যন্ত্র বা অন্য ধরনের অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়নি।
তবে দিশার বাবার আবেদনের শুনানিতে মুম্বাই হাইকোর্ট আগের তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালত জানতে চায়, মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশের পরও কেন এফআইআর করা হয়নি। তদন্তের পদ্ধতি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে।
এরপর ২ সেপ্টেম্বর আদালত সিবিআইকে দিশার মৃত্যুর সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে দিশার বাবার বক্তব্য রেকর্ড এবং এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, তদন্তে যথেষ্ট ভিত্তি ও যুক্তিসংগত সন্দেহের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
সতীশ সালিয়ানের অভিযোগে প্রভাবশালী রাজনীতিক ও অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ধর্ষণ, হত্যা এবং প্রমাণ লোপাটের কথাও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এখন সিবিআইয়ের তদন্তে দিশার মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি, আগের তদন্তের তথ্য এবং নতুন করে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে; আর অপরাধের প্রমাণ না মিললে আদালতে উপযুক্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।