collected
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের ছোট্ট গ্রাম বড়বাড়ি। মেঠো পথ ধরে গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে আমন ধানের বিস্তীর্ণ সবুজ খেত। শরতের আকাশে কখনো রোদ, কখনো মেঘ—প্রকৃতির এই লুকোচুরি যেন পুরো পথজুড়ে তৈরি করে অন্য রকম এক আবহ।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের আমতলা থেকে শ্যামরারবাজারের দিকে যাওয়ার পথে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। রোদের আলোয় আমন ধানের সবুজ খেত ঝলমল করছিল। আবার কিছুক্ষণ পর মেঘের ছায়ায় সেই একই খেত পেয়ে যাচ্ছিল ভিন্ন রূপ।
শ্যামরারবাজার পেরিয়ে সিংকাপন গ্রাম হয়ে বড়বাড়ির দিকে এগোলে বদলে যায় চারপাশের দৃশ্য। পাকা সড়কের দুই পাশে বাড়িঘর, ধানখেত ও সবজির খেত। কোথাও পুকুর, তার পাড়ে সারি সারি সুপারিগাছ। কোনো বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে মাধবীলতা, কোথাও আবার ফুটে আছে টকটকে লাল জবা।
পাকা সড়ক শেষ হলে শুরু হয় ইট বিছানো পথ। দুই পাশে সবুজ ঘাসে ঢাকা জমি, আর পথের মাঝখানে পায়ে চলার সরু সাদা মাটির রেখা। আরও কিছুটা এগোলেই আঁকাবাঁকা মেঠো পথ। চারপাশের সবুজ আর হাওরের দিক থেকে আসা বাতাস মিলে তৈরি করে প্রশান্ত এক পরিবেশ।
খেতের আল ধরে কোথাও দেখা যায় জাল পেতে মাছ ধরছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছোট জাল হাতে শিশুরাও ছুটে বেড়াচ্ছে এদিক-ওদিক। ধানের খেতে সাদা বকের দল সবুজের মাঝে তৈরি করেছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। কখনো তারা দল বেঁধে উড়ে যাচ্ছে, আবার আকাশে চক্কর কাটছে চিল।
হাওরের কাছের মানিকনগর গ্রামের একটি দোকানের সামনে গাছের ছায়ায় বসে কয়েকজনকে আড্ডা দিতে দেখা যায়। মাঠের কাজ শেষে কেউ সেখানে এসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কেউ অবসর সময়টুকু পরিচিতজনদের সঙ্গে কাটাতে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। তপ্ত দুপুরেও গাছের ছায়ায় বইছে শীতল বাতাস।
শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে এমন গ্রামীণ পরিবেশ মনে করিয়ে দেয়, ভ্রমণের প্রশান্তি খুঁজতে শুধু পাহাড়, সাগর কিংবা নদীর কাছেই যেতে হয় না। আমন ধানের সবুজ খেত, মেঠো পথ, হাওরের বাতাস আর সহজ-সরল গ্রামীণ জীবনও হয়ে উঠতে পারে মন ভালো করার এক অনন্য ঠিকানা।