ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ছয় দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেছেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া এই অভিনেতার জীবনে অবশ্য একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে। সেটি কোনো সিনেমা বা অভিনয় নিয়ে নয়, বরং কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে না পারা নিয়ে।
‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর এক প্রতিযোগীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় নিজের এই অপূর্ণ ইচ্ছার কথা জানান অমিতাভ। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জীবনের কোনো একটি দিন আবার ফিরে পেতে চান, নাকি এমন কোনো দিন অনুভব করতে চান, যা আগে কখনো কাটাননি। অমিতাভ দ্বিতীয় বিকল্পটি বেছে নেন।
অভিনেতা জানান, তিনি এমন একটি দিন অনুভব করতে চান, যেদিন শেষ পর্যন্ত একটি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে পারবেন। সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ থাকলেও জীবনে সেটি শেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। গায়ক, সংগীতশিল্পী ও সেতারবাদকদের পরিবেশনা শুনলে নিজের সেই অপূর্ণতার কথা মনে পড়ে বলেও জানান তিনি।
অমিতাভের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাড়িতে প্রায় সব ধরনের বাদ্যযন্ত্রই রয়েছে। তবে সেগুলো এখনো বাজানো শেখা হয়নি। মজার বিষয় হলো, বাদ্যযন্ত্রগুলো তিনি ফুল ও মালা দিয়ে সাজিয়ে রাখেন। ভবিষ্যতে কোনো একদিন সেগুলো বাজানো শিখতে পারবেন—এমন আশাও রয়েছে তাঁর।
৮৪ বছর বয়সে এসেও কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে না পারাকে নিজের ‘গভীর আক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অমিতাভ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরলেও সংগীত শেখার এই ইচ্ছা অপূর্ণই রয়ে গেছে তাঁর।
তবে বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখা না হলেও সংগীতের সঙ্গে অমিতাভের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েকটি জনপ্রিয় সিনেমার গানে কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। ১৯৭৯ সালে ‘মিস্টার নটবরলাল’ সিনেমার ‘মেরে পাস আও মেরে দোস্তো’ গান দিয়ে গায়ক হিসেবে অভিষেক হয় তাঁর।
এরপর ‘সিলসিলা’ সিনেমায় ‘রং বরসে’ ও ‘নীলা আসমান’-এর মতো গানে কণ্ঠ দেন অমিতাভ। ২০০০-এর দশকে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও গান গাওয়ার দিকে ফেরেন তিনি। আদনান সামির সঙ্গে ‘তেরে চেহরা’ অ্যালবামের ‘কভি নেহি’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন এই অভিনেতা।
পরে ‘বাগবান’ সিনেমার ‘হোরি খেলি রঘুবীরা’ ও ‘ম্যায় ইয়াহান তু ওয়াহান’সহ বিভিন্ন গানে শোনা গেছে তাঁর কণ্ঠ। এ ছাড়া ‘বোল বচ্চন’, ‘কাহানি’, ‘ওয়াজির’, ‘শমিতাভ’ ও ‘১০২ নট আউট’ সিনেমাতেও গান গেয়েছেন তিনি।
বর্তমানে ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’র ১৮তম মৌসুম উপস্থাপনা করছেন অমিতাভ বচ্চন। অভিনয়, উপস্থাপনা ও সংগীত—বহুমুখী প্রতিভায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ হলেও বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার ইচ্ছাটি এখনো তাঁর কাছে অপূর্ণ এক অধ্যায় হয়ে আছে।