collected
টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। রোববার রাতে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে এ ঘটনা স্থানীয়দের নজরে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির কাজ করার সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছিল। তাঁরা কাজটিতে বাধা দেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সকালে স্থানীয়রা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিষয়টি জানার পর সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান।
১০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতু
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ।
স্থানীয়দের বাধার পরও রাতে কাজ শেষের অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির কাজ শুরু করেন। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করতে বলেন। একপর্যায়ে কাজ বন্ধও করা হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর রাতে আবার কাজ শুরু করে স্ল্যাবের ঢালাই শেষ করা হয়। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই তাঁরা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে আসছেন। সর্বশেষ ঘটনার পর তাঁরা সংশ্লিষ্ট স্ল্যাবগুলো ভেঙে যথাযথভাবে পুনর্নির্মাণ এবং অনিয়মের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঠিকাদারের বক্তব্য
ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ফুটপাতের স্ল্যাবে চার ইঞ্চি ঢালাই রয়েছে। এর নিচে শাটারিং করতে হয় এবং সেটি পরে সরানো সম্ভব নয়। শাটারিংয়ের কাজে বাঁশ বা কাঠ ব্যবহার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, শাটারিংয়ের ওপর রডের খাঁচা ও পলিথিন দিয়ে ঢালাই করা হয়। বাঁশ দিয়ে শাটারিং করার সময় স্থানীয় কয়েকজন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
‘নিয়মের মধ্যে হয়নি’, বলছে প্রকৌশল বিভাগ
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রাতে ঢালাইয়ের কাজ করেছে। ফুটপাতের স্ল্যাব নির্মাণে যে পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, কিছু জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকলে সেগুলো ভেঙে পুনরায় করা হচ্ছে। দ্রুত সেসব কাজ ঠিক করা হবে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তদন্তের উদ্যোগ প্রশাসনের
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর তাঁরা সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর নির্মাণকাজে প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং হলে এর দায় কার—তা নির্ধারণ হবে।