বক্স অফিসে ব্যর্থ, তবু অক্টোবর এলেই কেন মনে পড়ে ‘অক্টোবর’?

Pinky Saha Pinky Saha ১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ AM BST ২৬ বার পঠিত
বক্স অফিসে ব্যর্থ, তবু অক্টোবর এলেই কেন মনে পড়ে ‘অক্টোবর’?

ছবি: সংগৃহীত

ঘাসে পড়ে থাকা শিউলি ফুল, তার ওপর জমে থাকা শিশির আর শরতের নরম আবহ—অক্টোবর এলেই অনেকের মনে পড়ে যায় সুজিত সরকার পরিচালিত হিন্দি সিনেমা ‘অক্টোবর’। আট বছর আগে, ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়নি। মুক্তির সময়ও ব্যাপক আলোচনায় আসেনি। অথচ বছরের এই সময় এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির দৃশ্য, সংলাপ ও আবেগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

সুজিত সরকারের সিনেমা সাধারণত প্রচলিত বলিউডের ছকে তৈরি নয়। ‘ভিকি ডোনার’, ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’ কিংবা ‘পিকু’র মতো সিনেমায়ও তাঁর নিজস্ব নির্মাণভঙ্গির পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে ‘অক্টোবর’ যেন সেই ধারাকেই আরও নীরব ও সংযত করে তুলেছিল। সিনেমাটিতে নেই চেনা বাণিজ্যিক মসলা, নেই নাচ-গানের বাহুল্য। বরুণ ধাওয়ানের মতো বাণিজ্যিক সিনেমার পরিচিত মুখকে এমন চরিত্রে দেখা গিয়েছিল, যা তাঁর আগের কাজগুলোর চেয়ে একেবারেই আলাদা। আর বানিতা সান্ধুর ছিল এটি প্রথম সিনেমা।

‘অক্টোবর’ মূলত ড্যান ও শিউলিকে ঘিরে এগিয়েছে। দুজনেই একটি হোটেলে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করে। একদিন তৃতীয় তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় শিউলি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সে অচেতন অবস্থায় থাকে। দুর্ঘটনার আগে শিউলির বলা শেষ কথাগুলোর একটি ছিল, ‘ড্যান, কোথায়?’ এই একটি বাক্যই ড্যানকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

এরপর ধীরে ধীরে হাসপাতালই হয়ে ওঠে ড্যানের নিয়মিত ঠিকানা। প্রতিদিন সে শিউলিকে দেখতে যায়। অচেতন অবস্থায় শুয়ে থাকা শিউলির পাশে বসে থাকতে থাকতে তৈরি হয় এক অদ্ভুত সম্পর্ক। সম্পর্কটির নাম কী—প্রেম, মায়া, দায়িত্ব নাকি নিঃশর্ত টান—সিনেমা সেটির সহজ কোনো উত্তর দেয় না।

‘অক্টোবর’কে তাই অনেকেই ‘নৈঃশব্দ্যের গান’ হিসেবে দেখেন। সংলাপের চেয়ে এখানে নীরবতা বেশি কথা বলে। প্রকৃতি, হাসপাতালের করিডর, অপেক্ষা, মানুষের ছোট ছোট অনুভূতি আর অসমাপ্ত সম্পর্ক—সব মিলিয়ে সিনেমাটি দর্শককে গল্পের চেয়ে বেশি অনুভূতির ভেতর নিয়ে যায়।

সিনেমার শিউলির নামটিও যেন গল্পের আবহের সঙ্গে মিশে আছে। শিউলি ফুল স্বল্পস্থায়ী—রাতের অন্ধকারে ফুটে ভোরের আলোয় ঝরে পড়ে। পর্দার শিউলির জীবন ও তাঁর নামের এই প্রতীকী সম্পর্কও সিনেমাটির আবেগকে আরও গভীর করে।

হিন্দি ভাষায় নির্মিত হলেও ‘অক্টোবর’-এর আবহ অনেক বাঙালি দর্শকের কাছেও আলাদা অনুভূতি তৈরি করেছে। নির্মাতা সুজিত সরকার, চিত্রগ্রাহক অভীক মুখোপাধ্যায় ও সংগীত পরিচালক শান্তনু মৈত্র—তিনজনই বাঙালি। প্রকৃতি ও আবেগকে দেখানোর ধরনেও সিনেমাটিতে এক ধরনের পরিচিত, সংবেদনশীল আবহ পাওয়া যায়।

সিনেমাটির গল্পের সঙ্গে সুজিত সরকারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতারও যোগ রয়েছে। মৃত্যুর আগে তাঁর মা দীর্ঘদিন দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মায়ের পাশে হাসপাতালে বসে থাকার সেই সময়ের অভিজ্ঞতা বহু বছর পর ‘অক্টোবর’-এর গল্প ও আবহ নির্মাণে প্রভাব ফেলেছিল।

কোভিড মহামারির সময় সিনেমাটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ নতুন করে তৈরি হয়। হাসপাতালে ভর্তি প্রিয়জনের পাশে থাকা, অপেক্ষা করা কিংবা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানোর অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনেকেই তখন ‘অক্টোবর’-এর গল্পের মিল খুঁজে পান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিনেমাটি নিয়ে নতুন করে লেখা শুরু হয়।

মুক্তির সময় বড় বক্স অফিস সাফল্য না পেলেও সময়ের সঙ্গে ‘অক্টোবর’ হয়ে উঠেছে অন্যরকম এক সিনেমার নাম। ধীরগতির এই ছবিকে দর্শক একেকজন একেকভাবে মনে রেখেছেন। আর অক্টোবর এলেই শিউলি, শিশির, নীরবতা আর অপেক্ষার সঙ্গে সিনেমাটির সেই আবেগও যেন ফিরে আসে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: