ব্রেকিং

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিপাকে বিদ্যুৎ সরবরাহ

Sumon Biswas Sumon Biswas ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৪৫ PM BST ২৯ বার পঠিত
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিপাকে বিদ্যুৎ সরবরাহ

যান্ত্রিক ত্রুটিতে এক দিনের ব্যবধানে বন্ধ হয়েছে ১২৫ ও ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট। সংস্কারকাজের কারণে দ্বিতীয় ইউনিটও প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক দিনের ব্যবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সচল থাকা প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে সোমবার ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর পরদিন মঙ্গলবার ভোরে একই ধরনের ত্রুটিতে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটও বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি সংস্কারকাজের কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে প্রথম ইউনিট এবং মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ত্রুটি মেরামতের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন কোম্পানির প্রকৌশলীরা ইউনিট দুটির ত্রুটি নিরসনে কাজ করছেন। তবে কখন নাগাদ ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। এই ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটে প্রায়ই উৎপাদন ব্যাহত হয়। এবার একসঙ্গে দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনই থেমে গেছে।

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিটটির সংস্কার ও ওভারহোলিংয়ের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষের আশা, চলতি অক্টোবর মাসের যেকোনো সময় দ্বিতীয় ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে।

দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমানে প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটের ত্রুটি মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: