বয়স যেন শুধুই সংখ্যা, পূর্ণিমার সৌন্দর্যে এখনো মুগ্ধ দর্শক

Pinky Saha Pinky Saha ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৪৮ PM BST ৩২ বার পঠিত
বয়স যেন শুধুই সংখ্যা, পূর্ণিমার সৌন্দর্যে এখনো মুগ্ধ দর্শক

ছবি: সংগৃহীত

রুপালি পর্দায় কয়েক দশক ধরে সৌন্দর্য, অভিনয় ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে আছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা, এসেছে নতুন প্রজন্ম, বদলেছে দর্শকের রুচিও। তবে পূর্ণিমাকে ঘিরে দর্শকের মুগ্ধতা যেন এখনো একই রকম রয়ে গেছে।

বরং সময়ের সঙ্গে তাঁর সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে পরিণত এক দীপ্তি। চলচ্চিত্রে নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্ণিমার উপস্থিতি এখনো ভক্তদের নজর কাড়ে। নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করলেই প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ছবিতেও দেখা গেছে একই চিত্র। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ আর মুখের মিষ্টি হাসিতে পরিশীলিত এক লুকে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপ ও সাদা প্যান্টের সঙ্গে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার পরেছেন পূর্ণিমা। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ছিল আধুনিকতা ও আভিজাত্যের ছোঁয়া।

তবে ছবির পাশাপাশি পূর্ণিমার ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের ওঠানামাকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।’

অভিনেত্রীর এই কথার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরা। মন্তব্যের ঘরে কেউ লিখেছেন, ঝড় এলেও নিজের ভেতরের আলো যেন কখনো নিভে না যায়। আবার কেউ বলেছেন, জীবনে যত কিছুই ঘটুক, থেমে থাকা উচিত নয়।

পূর্ণিমার সাম্প্রতিক ছবির মন্তব্যের ঘর যেন আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—দর্শকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু পর্দার চরিত্রে আটকে নেই। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের ধরন বদলেছে, কিন্তু মুগ্ধতা হারায়নি।

যেভাবে শুরু হয়েছিল পথচলা

মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পূর্ণিমার। প্রথম ছবিতেই তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ। অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি।

এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন পূর্ণিমা। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান থেকে শুরু করে শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তিনি।

তবে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির জনপ্রিয়তা ছিল আলাদা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়। বিশেষ করে ‘মনের মাঝে তুমি’ বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।

শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘লাল নীল বেগুনী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি পান।

‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’, ‘লাভ অ্যান্ড কোং’সহ বিভিন্ন নাটক ও টেলিফিল্মে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন ও বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরেও সরে যাননি। তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।

বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও তাঁর উপস্থিতি রয়েছে।

সব মিলিয়ে পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—পথটা দীর্ঘ। বদলেছে বয়স, বদলেছে সময়, বদলেছে চারপাশ। তবে দর্শকের চোখে তাঁর সেই মুগ্ধতা এখনো অটুট।

হয়তো এ কারণেই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা। সময় তাঁর জীবনে যোগ করেছে বছর, কিন্তু কেড়ে নিতে পারেনি তাঁর দীপ্তি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: