ছেলেকে রেখে কাজে বেরিয়ে বিমানে ৩ ঘণ্টা কাঁদলেন পরিণীতি, কেন?

Pinky Saha Pinky Saha ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:২৫ PM BST ২২ বার পঠিত
ছেলেকে রেখে কাজে বেরিয়ে বিমানে ৩ ঘণ্টা কাঁদলেন পরিণীতি, কেন?

সংগৃহীত ছবি

মাতৃত্বের পর জীবনের অনেক কিছুই বদলে যায়। কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুরু করে অনুভূতি ও দৈনন্দিন অভ্যাস—সবকিছুতেই আসে পরিবর্তন। বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার অভিজ্ঞতাও ছিল তেমনই।

সন্তান জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস ছেলেকে চোখের আড়াল করতে চাইতেন না পরিণীতি। তবে কাজের প্রয়োজনে একসময় সন্তানকে বাড়িতে রেখে বাইরে যেতে হয় তাঁকে। আর প্রথমবার ছেলেকে রেখে মুম্বাই যাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা এখনো ভুলতে পারেননি অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিণীতি জানান, ছেলেকে রেখে প্রথমবার মুম্বাই যাওয়ার সময় বিমানে টানা তিন ঘণ্টা কেঁদেছিলেন তিনি।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, সেই যাত্রার বিস্তারিত এখন আর তাঁর মনে নেই। বিমানবন্দরে কীভাবে পৌঁছেছেন, কীভাবে বিমানে উঠেছেন কিংবা মুম্বাইয়ে কীভাবে পৌঁছেছেন—এসব কিছুই মনে করতে পারেন না। শুধু মনে আছে, পুরো তিন ঘণ্টা তিনি কেঁদেছিলেন।

সন্তানকে রেখে কাজে বের হওয়ার সময় মায়েদের মধ্যে যে অপরাধবোধ তৈরি হয়, পরিণীতির ক্ষেত্রেও তা ছিল। তবে তাঁর অনুভূতি কেবল সাধারণ ‘মম গিল্ট’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সে সময় তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো আর কখনো কাজ করতে পারবেন না।

যদিও ছেলেকে নিয়ে বাস্তবে কোনো উদ্বেগের কারণ ছিল না। সন্তান পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেই নিরাপদে বাড়িতে ছিল। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে শিশুটির কোনো সমস্যাও হয়নি। বরং পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আরও কিছুদিন বাইরে থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়েছিলেন।

তারপরও নিজের ভেতরের অপরাধবোধ কাটিয়ে ওঠা সহজ ছিল না পরিণীতির জন্য। তাঁর মতে, মায়েদের এই অপরাধবোধ অনেক সময় অত্যন্ত তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

এই অনুভূতির পেছনে মায়ের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির পাশাপাশি সামাজিক ধারণারও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সন্তানকে ঘিরে মায়েদের ওপর সমাজের তৈরি করে দেওয়া প্রত্যাশাগুলো অনেক সময় এই অপরাধবোধ আরও বাড়িয়ে দেয়।

কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হলে অনেক নারীই তাঁকে সন্তানের বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলেও জানান পরিণীতি। তাঁরা সরাসরি জানতে চান, ‘আপনার বাচ্চা কোথায়?’ জবাবে অভিনেত্রী জানান, সন্তান বাড়িতেই আছে।

পরিণীতির মতে, একজন মা সন্তানকে ভালোবাসার পাশাপাশি নিজের পেশাগত জীবনও চালিয়ে যেতে পারেন। একজন মায়ের এই দুই ভূমিকাকে সমাজের আরও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: