ছবি: সংগৃহীত
রিয়্যালিটি শো ‘রোডিজ’ জিতে ২০০৪ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন আয়ুষ্মান খুরানা। এরপর রেডিও জকি, উপস্থাপক ও ছোটপর্দায় কাজের অভিজ্ঞতা পেরিয়ে ২০১২ সালে সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। প্রথম ছবিতেই অভিনয়ের পাশাপাশি ‘পানি দা রাং’ গানে কণ্ঠ দিয়ে দর্শকের নজর কাড়েন এবং সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কারও অর্জন করেন।
এরপর একের পর এক ব্যতিক্রমী গল্প ও চরিত্রে অভিনয় করে বলিউডে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেন আয়ুষ্মান। ‘দাম লাগা কে হইশা’, ‘বারেলি কি বারফি’, ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’, ‘বাধাই হো’, ‘আর্টিকেল ১৫’, ‘ড্রিম গার্ল’ ও ‘বালা’র মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। গতানুগতিক বাণিজ্যিক গল্পের বাইরে সামাজিক বাস্তবতা, সম্পর্ক ও জীবনের নানা টানাপোড়েনকে সিনেমার বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠেছে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আয়ুষ্মানের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা ‘আন্ধাধুন’। এতে অন্ধ পিয়ানোবাদকের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পান তিনি। এই সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি গান ও উপস্থাপনায় দক্ষতা দেখিয়ে বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন এই অভিনেতা।
ব্যক্তিগত জীবনেও আয়ুষ্মানের দীর্ঘদিনের সঙ্গী তাহিরা কাশ্যপ। ২০০৮ সালে শৈশবের বন্ধু তাহিরাকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাহিরার ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইসহ জীবনের কঠিন সময়গুলোতেও তাঁর পাশে থেকেছেন আয়ুষ্মান। এ কারণে বলিউডে তাঁদের দাম্পত্যকে অনেক সময় আদর্শ ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে দেখা হয়।
ক্যারিয়ারের সঙ্গে আয়ুষ্মানের আর্থিক অবস্থাতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিয়ের সময় তাঁর ব্যাংক হিসাবে ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট ও বিনিয়োগের পাশাপাশি সিনেমাপ্রতি ৮ থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন বলেও দাবি রয়েছে। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থাম্মা’ সিনেমার জন্য তাঁর পারিশ্রমিক প্রায় ১০ কোটি টাকা ছিল বলে জানা যায়।
রেডিও, টেলিভিশন, গান ও সিনেমা—বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আয়ুষ্মান খুরানা এখন বলিউডের অন্যতম স্বতন্ত্র অভিনেতা। ব্যতিক্রমী গল্প ও চরিত্র বেছে নেওয়ার ধারাবাহিকতা তাঁকে মূলধারার হিন্দি সিনেমায় আলাদা একটি জায়গা তৈরি করে দিয়েছে।আ