চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জরিপে মিলেছে দুই প্রজাতির এডিস মশার লার্ভা

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ AM BST চট্টগ্রাম জেলা ৪২ বার পঠিত
চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জরিপে মিলেছে দুই প্রজাতির এডিস মশার লার্ভা

collected

চট্টগ্রামে গত দেড় মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগর এবং নগরসংলগ্ন সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলার রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার প্রেক্ষাপটে নগর ও দুই উপজেলায় পৃথকভাবে মশার লার্ভা নিয়ে জরিপ চালিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জরিপে দুটি প্রজাতির এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

জেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে চট্টগ্রাম নগরে জরিপ পরিচালনা করা হয়। এরপর জুলাই ও আগস্ট মাসে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় সেখানেও জরিপ চালানো হয়।

দুই জরিপে শনাক্ত হওয়া লার্ভার মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টাই এবং ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এডিস অ্যালবোপিকটাস বা এশিয়ান টাইগার মশার বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদদের তথ্য অনুযায়ী, এডিস ইজিপ্টাই বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রধান বাহক। অন্যদিকে এডিস অ্যালবোপিকটাস ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়ারও বাহক। এডিস ইজিপ্টাই সাধারণত মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে থাকে এবং মানুষের রক্তের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। এডিস অ্যালবোপিকটাস সাধারণত ঘরের বাইরের বাগান, ঝোপঝাড় ও অন্যান্য পরিবেশে বেশি দেখা যায়।

জরিপে নগর ও দুই উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন এবং বাসাবাড়ির আশপাশে থাকা বিভিন্ন পাত্রে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। গত জুন মাসে চট্টগ্রাম নগরে পরিচালিত জরিপে প্রতি চারটি বাড়ির একটিতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যায়। তবে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলায় পরিচালিত জরিপের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করেনি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন সৌনম বড়ুয়া বলেন, কর্ণফুলীর বিভিন্ন বাড়ির উঠানে এবং সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন দোকানের সামনে ফেলে রাখা যন্ত্রাংশ, কৌটা ও টায়ারে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এডিস ইজিপ্টাইয়ের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি এডিস অ্যালবোপিকটাসের লার্ভাও পাওয়া গেছে। এসব স্থান পরিষ্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বলা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।

দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, এডিস মশা সাধারণত দিনের আলো ফোটার পর এবং সূর্য ডোবার কয়েক ঘণ্টা আগে বেশি সক্রিয় থাকে। তবে ঘরের আলোতেও রাতে এটি সক্রিয় হয়ে কামড়াতে পারে। তাই শুধু সন্ধ্যা বা রাতে নয়, দিনের বেলাতেও ঘুম বা বিশ্রামের সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সম্ভব হলে দিনের বেলাতেও ফুলহাতা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরের আশপাশে পানি জমে থাকে এমন স্থান ও পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ১১ জন। চলতি বছর মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ২৭০ জন, যার মধ্যে ১ হাজার ২৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন সেপ্টেম্বর মাসে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, দিনের বেলাতেও ঘুমানো বা বিশ্রামের সময় মশারি টানাতে হবে। প্রয়োজন ও সম্ভব হলে ফুলহাতা পোশাক পরতে হবে। পাশাপাশি ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়।

তিনি বলেন, যেহেতু ভাইরাসের বাহক চিহ্নিত করা গেছে, তাই এখন সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: