collected
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২২ দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। এর মধ্যে নিয়োগের ২১ দিন পর সোমবার (১২ অক্টোবর) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নতুন উপাচার্যের পদত্যাগ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
চুয়েটের এই পরিস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কারও কারও ধারণা, আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক বিষয় থাকতে পারে। এর আগে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) উপাচার্য নিয়োগ ও পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করেন।
তবে চুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আন্দোলনের সঙ্গে কোনো দলীয় রাজনীতির সম্পর্ক নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই তাঁরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলন করছেন বলেও দাবি করেছেন তাঁদের একজন।
চুয়েটের একাধিক সূত্রের দাবি, উপাচার্য নিয়োগ ও পরিবর্তনের ঘটনায় চট্টগ্রামে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের প্রভাব থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের পছন্দ-অপছন্দের কারণে উপাচার্য পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলে ক্যাম্পাসে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া চুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ না দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত ২৭ জুলাই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, উপাচার্য নিয়োগ একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে পরিচালনার জন্য কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা সরকার বিবেচনা করবে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, শ্রেণিকক্ষের সমস্যা বা শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করতে পারেন, তবে উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন করা সমীচীন নয়।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল করাই বর্তমান সংকট সমাধানের উপায়। তাঁদের একজন জানিয়েছেন, দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে চান এবং সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
চুয়েট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন অচল থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আগে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে অচলাবস্থা নিরসন করা জরুরি।