চুয়েটে তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ AM BST চট্টগ্রাম ১৩০ বার পঠিত
চুয়েটে তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের

collected

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য। প্রধান ফটকে তিনি নিজেকে শুধু ‘শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন। পরে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকে লাগানো তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে যান।

সোমবার সকালে উপাচার্য ভবনে গিয়ে দেখা যায়, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম উপাচার্যের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে আছেন। এ সময় তাঁর কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা একসাথেই ভেতরে প্রবেশ করেছি।’

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে তাঁকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকেই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। একই দাবিতে শিক্ষক সমিতির সদস্য এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। এর ফলে টানা ২০ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে এত দিন ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তবে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে তিনি উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন।

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার মধ্যে নতুন উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নতুন উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের পর আন্দোলনকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: