‘ডাক্তার কাকু’তে নতুন রূপে প্রসেনজিৎ, কেন রাজি হলেন এই চরিত্রে?

Pinky Saha Pinky Saha ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ PM BST ২৫ বার পঠিত
‘ডাক্তার কাকু’তে নতুন রূপে প্রসেনজিৎ, কেন রাজি হলেন এই চরিত্রে?

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সিনেমায় কখনো পুলিশ, কখনো রহস্যভেদী কাকাবাবু—বিভিন্ন চরিত্রে দর্শকের সামনে এসেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এবার প্রথমবারের মতো চিকিৎসকের চরিত্রে পর্দায় হাজির হয়েছেন এই অভিনেতা। পাভেল পরিচালিত ‘ডাক্তার কাকু’ সিনেমাটি গতকাল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। এতে প্রসেনজিতের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ঋদ্ধি সেন ও এনা সাহা।

বাবা ও ছেলের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। গল্পে বাবা ও ছেলে দুজনই চিকিৎসক হলেও পেশা এবং রোগীর প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনায় রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের সঙ্গে যখন রোগীর জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব যুক্ত হয়, তখন সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনই গল্পের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।

সিনেমাটিতে চিকিৎসাব্যবস্থার অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ভালো চিকিৎসা পেতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ এবং পেশাগত নৈতিকতার মতো বিষয়গুলো নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে ‘ডাক্তার কাকু’তে।

ছবিটির প্রচারে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছ থেকে শেখার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেনও এই সিনেমায় অভিনয় করছেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগও প্রসেনজিতের আগ্রহের অন্যতম কারণ ছিল।

প্রসেনজিৎ জানান, ঋদ্ধির কোনো কাজ বা ভিডিও ভালো লাগলে মাঝরাতেও তাঁকে বার্তা পাঠান। তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের নিজস্ব একটি অভিনয়ের ভাষা তৈরি হয়েছে। সেই অভিনয়ভঙ্গির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমার কোনো জটিল দৃশ্য থাকলে শুটিংয়ের আগে ঋদ্ধির সঙ্গে বসে স্ক্রিপ্ট পড়তেন বলেও জানান তিনি।

‘ডাক্তার কাকু’তে প্রসেনজিতের চরিত্রটি শুধু চিকিৎসকের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চরিত্রটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে মধ্যবিত্ত মানসিকতা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আদর্শবোধ। একই সঙ্গে ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেছে।

প্রসেনজিতের ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটিতে বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের পরিচিত আবহ এবং শিকড়ের কাছাকাছি থাকা বাঙালিয়ানা রয়েছে। চরিত্রটি দর্শকের কাছে পরিচিত মনে হতে পারে, তবে এমন চরিত্রে তিনি আগে অভিনয় করেননি।

আরেক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ জানান, তিনি আবেগপ্রবণ মানুষ এবং অতীতের সঙ্গে যুক্ত নিজের শিকড়কে আঁকড়ে থাকতে ভালোবাসেন। ‘ডাক্তার কাকু’ সেই শিকড়ের গল্প বলার চেষ্টা করেছে বলেও মনে করেন তিনি। নিজের জীবনেও এমন কয়েকজন ‘ডাক্তার কাকু’ দেখেছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। সে কারণেই চরিত্রটির কথা শুনে তিনি কাজটি করতে আগ্রহী হন।

‘ডাক্তার কাকু’র নির্মাণপ্রক্রিয়া অবশ্য শুরু হয়েছিল করোনা মহামারির আগেই। নানা কারণে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকার পর অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল সিনেমাটি। চিকিৎসক বাবা-ছেলের সম্পর্ক, পেশাগত নৈতিকতা, চিকিৎসাব্যবস্থার বৈষম্য এবং মধ্যবিত্ত জীবনের আবহ—এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে প্রসেনজিতের নতুন সিনেমাটি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: