collected
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এখনও নির্বাচন কমিশনে গড়ায়নি। বহিষ্কারের প্রায় দুই মাস পরও সংসদ সচিবালয় থেকে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে কোনো আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
জামায়াতে ইসলামী ২৩ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দেয়। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়।
ইসির অপেক্ষা সংসদ সচিবালয়ের চিঠির
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জামায়াত দলীয় প্যাডে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের বিষয়টি ইসিকে জানিয়েছে। তবে সংসদ সচিবালয় থেকে এখনো কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদও জানিয়েছিলেন, শুধু রাজনৈতিক দলের বহিষ্কারের চিঠির ভিত্তিতে ইসি এমপি পদ নিয়ে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে না। সংসদ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিতে পাঠানো হলে কমিশন তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।
সংবিধানে কী বলা আছে
সংবিধানের ৬৬ ও ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য পদে থাকা ও আসন শূন্য হওয়ার বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ রয়েছে। কোনো সংসদ সদস্য ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অযোগ্য হয়েছেন কি না বা ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় তার আসন শূন্য হবে কি না—এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোর বিধান রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত।
তবে কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক দল তাকে বহিষ্কার করলে তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে কি না—এ বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যাখ্যার প্রশ্ন রয়েছে। ২৩ জুলাই ইসিও জানিয়েছিল, দল থেকে বহিষ্কার হওয়া এবং সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয় এক নয় এবং সংসদীয় রেফারেন্স পাওয়ার পরই তারা বিষয়টি পরীক্ষা করবে।
জামায়াতের অবস্থান
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ হিসেবে তারা স্পিকার ও সিইসিকে চিঠি দিয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান দাবি করেছেন, আইনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও সংসদ সচিবালয় থেকে বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন—এ ঘটনায় আইনগত অর্থে আদৌ কোনো ‘বিরোধ’ সৃষ্টি হয়েছে কি না।
ইসিতে রেফারেন্স গেলে কী হবে
ইসি জানিয়েছে, সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স পেলে বিষয়টি আইন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে তদন্ত ও শুনানির পর কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের মতো দল থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্যের পদ নিয়ে বিতর্কের নজির থাকলেও ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার নজির নেই।
দশম সংসদে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়টিও স্পিকারের দপ্তর থেকে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। কমিশন শুনানি শুরু করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
ফলে গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স কখন যাবে এবং রেফারেন্স পাওয়ার পর সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়।