collected
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষে ভুয়া খবর ও অপপ্রচার চালানোর একটি নেটওয়ার্ক শনাক্তের দাবি করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গাইবান্ধা জেলার এক ব্যক্তি তাদের এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বিপুলসংখ্যক ভুয়া বাংলা সংবাদ, শিরোনাম ও ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অ্যানথ্রপিকের ১৫৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নেটওয়ার্কটি আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার চালানোর পাশাপাশি দলটির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াত। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গাইবান্ধার ওই ব্যক্তি প্রায় ১৬ মাস ধরে ২৯টি ‘ক্লড’ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘fake_news_3.py’ নামের একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে একসঙ্গে ১৫টি শিরোনাম, তিনটি তৈরি করা সংবাদ এবং ১৫টি ছবির জন্য নির্দেশনা তৈরি করা হতো। অ্যানথ্রপিকের হিসাব অনুযায়ী, এ কার্যক্রমে অন্তত ১ হাজার ৫০০টি ভুয়া শিরোনাম, ৩০০টি মিথ্যা সংবাদ এবং ১ হাজার ৫০০টি ছবির নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে।
তবে ‘ক্লড’ নিজে ছবি তৈরি করে না। ফলে এসব নির্দেশনা অন্য কোনো এআই সিস্টেম ব্যবহার করে ছবি তৈরিতে কাজে লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে।
অ্যানথ্রপিক জানায়, তৈরি করা কনটেন্ট পরে ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব প্রচারণার অন্যতম লক্ষ্য ছিল গ্রামাঞ্চলের আওয়ামী লীগ সমর্থক ও তুলনামূলক কম শিক্ষিত দর্শক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেটওয়ার্কটির একজন অপারেটর এক মাস আগেই ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারতেন। তৃতীয় পক্ষের একটি সেবার মাধ্যমে ভিডিও আপলোড করা হতো, যাতে পরিচালনাকারীর অবস্থান গোপন রাখা সম্ভব হয়।
অ্যানথ্রপিকের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেও জানতেন যে তৈরি করা খবরগুলো মিথ্যা। কনটেন্টগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনাপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক ভাষায় তৈরি করা হতো এবং গ্রামাঞ্চলের সাধারণ দর্শকদের সহজে বোঝার উপযোগী করে উপস্থাপন করা হতো।
অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে অ্যানথ্রপিক
অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম শনাক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই ধরনের অপব্যবহার শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও তথ্য দেওয়া হয়েছে।
‘ডিটেক্টিং অ্যান্ড কাউন্টারিং মিসইউজ অব এআই: সেপ্টেম্বর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে এই নেটওয়ার্কের পাশাপাশি এআইয়ের অপব্যবহারের আরও কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সাইবার হামলা, প্রভাব বিস্তারমূলক প্রচারণা, নজরদারি, অস্ত্র উন্নয়ন, জৈবিক অপব্যবহার, প্রতারণা এবং এআই মডেল চুরির মতো বিষয় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এআই প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে জটিল ধরনের অপারেশন পরিচালনায় সবসময় বড় দল বা বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হচ্ছে না। একজন ব্যক্তিও এমন ধরনের প্রচারণা পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছেন, যার জন্য আগে হয়তো একটি বড় দলের প্রয়োজন হতো।
ভারতের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি অ্যানথ্রপিক
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেটওয়ার্কটির তৈরি কিছু কনটেন্ট ‘ভারতপন্থি ভূরাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ ছিল। তবে এসব কনটেন্ট তৈরির পেছনে কোনো রাষ্ট্রের নির্দেশনা বা অর্থায়নের প্রমাণ পাওয়ার কথা অ্যানথ্রপিক জানায়নি।
প্রতিবেদনে ভারতের প্রসঙ্গ সরাসরি এসেছে এই বিষয়টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশে পরিচালিত ওই নেটওয়ার্কের সঙ্গে কোনো ভারতীয় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্মের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগও করা হয়নি।
ফলে অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কনটেন্টের কিছু অংশ ভারতপন্থি অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এর পেছনে ভারতের সরাসরি নির্দেশনা, অর্থায়ন বা সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠানটি পায়নি।