collected
রাজধানীর বাজারে এলপিজি সরবরাহে সংকট নেই বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করলেও নির্ধারিত দামে মিলছে না সিলিন্ডার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
তেজগাঁওয়ের একটি দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে বাড়তি দামের মুখে পড়েন বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ অয়ন। তিনি জানান, এর আগে একই সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৫০ টাকায় কিনলেও এবার দোকানি ১ হাজার ৯৫০ টাকা দাবি করেন। দর-কষাকষি করেও দাম কমানো সম্ভব হয়নি। দোকানে অন্য ক্রেতারাও সিলিন্ডারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলে জানান তিনি।
বাড়তি দামের কারণে শুধু গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরাই নন, ছোট ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েছেন। চা দোকানি আরিফ জানান, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার তাঁকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। কিন্তু চায়ের দাম বাড়াতে না পারায় বাড়তি জ্বালানি ব্যয় সামলাতে তাঁর ব্যবসায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের জন্য বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে তা প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ৩৫ কেজির সিলিন্ডার প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রির তথ্যও পাওয়া গেছে।
বিক্রেতাদের দাবি, তাঁরা নিজেরাই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দরে বিক্রি করলে লোকসান হবে। এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কোঅপারেটিভ সোসাইটির ট্রেজারার আবু তাহের খোরশেদ বলেন, অনেক কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে পারছে না। কোথাও পাঁচ থেকে আট দিন অপেক্ষা করে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পণ্য আনতে হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, বাড়তি দাম দিয়েও অনেক সময় প্রয়োজন অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে সিলিন্ডার কিনছেন। এতে নির্ধারিত মূল্য, বাজারদর ও সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
এলপিজির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর মতে, এলপিজির বাজার দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী দাম কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা এবং কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা চিহ্নিত করা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরেও প্রায় একই পরিমাণ এলপিজি আমদানি হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। ফলে আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য থাকার পরও বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি এবং চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে সরবরাহব্যবস্থার কার্যকারিতা ও মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।