ফরিদপুর মেডিক্যালে ২৩ কোটি টাকার চিকিৎসাযন্ত্র অব্যবহৃত, দুদকের অনুসন্ধান

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪১ PM BST ঢাকা ১২৫ বার পঠিত
ফরিদপুর মেডিক্যালে ২৩ কোটি টাকার চিকিৎসাযন্ত্র অব্যবহৃত, দুদকের অনুসন্ধান

collected

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা চিকিৎসাযন্ত্র বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্যান্সার রোগীদের রেডিওথেরাপির জন্য কেনা প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার লিনিয়ার এক্সেলেটর এখনো বাক্সবন্দি। অন্যদিকে, হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ক্যাথল্যাব নয় বছরের বেশি সময়েও চালু হয়নি। যন্ত্র দুটি কেনার পুরো অর্থ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের পরিশোধ করা হয়েছে বলে দুদকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

হাসপাতালের সরকারি অর্থের ব্যবহার, চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়ম, অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া আদায় ও জমা এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুই দিন অভিযান চালায় দুদক। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন দুদকের ফরিদপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে দুদকের আট সদস্য অংশ নেন।

দুদক জানায়, হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হয়। হৃদ্‌রোগের বিভিন্ন জটিল পরীক্ষা ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ এই যন্ত্র দীর্ঘ সময়েও চালু হয়নি। অথচ যন্ত্রটি কার্যকর না করেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।

একই অর্থবছরে হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটের জন্য প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে লিনিয়ার এক্সেলেটর কেনা হয়। ক্যান্সার রোগীদের রেডিওথেরাপি চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রটি এখনো বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ না করেই যন্ত্রটি কেনা হয়েছিল। ক্যাথল্যাব ও লিনিয়ার এক্সেলেটর মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। কিন্তু যন্ত্র দুটি চালু না হওয়ায় রোগীরা প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাসপাতালের উপপরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, যন্ত্র দুটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তবে কেন সেগুলো চালু করা যায়নি, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর হিসাব যাচাই করতে গিয়ে দুদক ‘ফেব্রিক্স’ নামের একটি ওষুধের ৭৬২ বোতল ঘাটতি এবং ‘হেক্সাটন’ নামের ওষুধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বোতল পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে। এসব অসংগতির কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। হিসাবের ভুল, সরবরাহের অসংগতি নাকি অন্য কোনো অনিয়মের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চিকিৎসাসামগ্রী কেনার কার্যাদেশে সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে ফিল্ম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসব সামগ্রী সরবরাহ করেনি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য থেকে জানতে পেরেছে দুদক। অথচ অন্যান্য সামগ্রীর বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কার্যাদেশ, সরবরাহের নথি ও বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া যাচাই করা হচ্ছে।

হাসপাতালের পাঁচটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুটি নষ্ট এবং তিনটি চালু রয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। গত এক মাসে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার কোনো অর্থ সরকারি হিসাবে জমা হয়নি বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ। তবে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু এ তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন। ফলে ভাড়া আদায়, রসিদ ও সরকারি হিসাবে জমার নথি যাচাই করে প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা হবে।

এ ছাড়া রোগীদের হয়রানি, দালাল চক্রের মাধ্যমে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অভিযানে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে অনিয়মের ধরন এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: