গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটেও বিকল্প জ্বালানিতে সচল সাভারের ফোর এ ইয়ার্ন ডায়িং

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:০৭ PM BST ২২ বার পঠিত
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটেও বিকল্প জ্বালানিতে সচল সাভারের ফোর এ ইয়ার্ন ডায়িং

collected

বিকল্প জ্বালানিতে উৎপাদন সচল:

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে দেশের তৈরি পোশাক খাতে যখন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্রয়াদেশ কমছে, তখন বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থায় উৎপাদন সচল রেখেছে সাভারের ফোর এ ইয়ার্ন ডায়িং। ওয়ালমার্ট, গ্যাপ ও নেক্সটের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় হুডি সেলাই ও লোগো সংযোজনের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।

সৌরবিদ্যুৎ ও জেনারেটরে নির্ভরতা:

২০১৯ সাল থেকে নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি গ্যাস ও ডিজেলচালিত জেনারেটরের ব্যবস্থা রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ৭ হাজার ৫০০ শ্রমিকের এই কারখানার বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ হয় ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে। বাকি চাহিদা পূরণ করা হয় নিজস্ব গ্যাস ও ডিজেলচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে। ফলে কোনো একটি উৎসে সরবরাহ কমলেও বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।

পোশাক খাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব:

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) জরিপে ১৩৪টি রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার কারখানার মধ্যে ৫৫ শতাংশের ক্রয়াদেশ কমেছে বা বাতিল হয়েছে। ৭৮ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা বিদ্যুৎ সংকট এবং ৭৫ শতাংশ গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে সময়মতো পণ্য সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠানকে পণ্য পাঠাতে আকাশপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে এবং ক্রেতাদের ধরে রাখতে মূল্যছাড়ও দিতে হচ্ছে।

জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে:

ফোর এ ইয়ার্ন ডায়িংয়ের অন্যতম মালিক আব্দুল্লাহ হিল নাকিব বলেন, শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি কোনো একটি জ্বালানি উৎসের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় বর্তমান সংকটেও উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় ২ থেকে ৩ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি মাসে জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

সংকট আরও বাড়লে উৎপাদন সচল রাখতে বড় আকারের শিল্প ব্যাটারি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। সৌরবিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেলের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা গেলে সাময়িক সরবরাহ-বিঘ্নের সময়ও উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

রপ্তানি ও ক্রয়াদেশ নিয়ে উদ্বেগ:

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যে দেশে ডিজেলের দামও বাড়ানো হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এতে জেনারেটরনির্ভর শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে এবং এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত। ফলে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের প্রভাব উৎপাদন ও ক্রয়াদেশের পাশাপাশি রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানেও পড়তে পারে।

রপ্তানিকারক শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, পোশাক খাতে মুনাফার পরিমাণ এমনিতেই কম। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিতে চাপ আরও বেড়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কানাডার এক ক্রেতা ২৫ হাজার পিসের ক্রয়াদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৮ হাজার পিসের অর্ডার দিয়েছে।

ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাড়তি জ্বালানি ব্যয় সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ হারাতে পারে। তাঁর মতে, তখন ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো ক্রেতাদের কাছে বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: