Photo Collected
একসময় সিনেমার পারিশ্রমিক দিয়ে জীবন ও জীবিকা চালাতে পারবেন, এমনটা ভাবেননি অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। ক্যারিয়ারে ‘হাওয়া’, ‘প্রেশার কুকার’ ও ‘রইদ’-এর মতো সিনেমায় কাজ করার সুযোগও ছিল তাঁর কল্পনার বাইরে। অথচ নীরবে কাজ করে যাওয়া, ধৈর্য ধরা আর নিজের মতো করে এগিয়ে চলার মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে তাঁর অভিনয়জীবন। একসময় অনেকে তাঁকে বলেছিলেন, ‘হাওয়া’র পর তিনি নাকি হাওয়া হয়ে গেছেন, কাজ নেই। তবে তুষির ভাষ্য, তিনি কখনোই থেমে থাকেননি; নীরবে কাজ করে গেছেন।
চলতি বছর একের পর এক কাজ ও সাফল্যের খবরে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। বছরের শুরুতে তাঁর অভিনীত ‘রইদ’ রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়। এরপর ঈদে মুক্তি পায় ‘প্রেশার কুকার’ ও ‘রইদ’। পাশাপাশি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ওয়েব সিরিজ ‘অ্যানি’ জার্মানির উৎসব থেকে সুখবর দেয়। রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’ সিনেমার প্রচারণা নিয়েও আলোচনায় ছিলেন তুষি। একসঙ্গে এত কাজ সামনে আসায় তাঁর মনে হচ্ছে, বছরটি যেন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি রঙিন হয়ে উঠেছে।
তবে এই সাফল্যকে ক্যারিয়ারের শেষ গন্তব্য মনে করছেন না তুষি। বরং সামনে আরও নতুন চরিত্রে অভিনয় করতে চান তিনি। বিশেষ করে রোমান্টিক প্রেমের গল্প, থ্রিলার ও হররসহ বিভিন্ন ঘরানার সিনেমায় নিজেকে মেলে ধরার আগ্রহ রয়েছে তাঁর। এবার প্রথমবারের মতো মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায় দেখা যাবে তাঁকে। সেখানে নাচ, গান ও মারপিটের মতো উপাদানও থাকতে পারে। সিনেমাটি আগামী বছর ঈদুল ফিতরে মুক্তির কথা রয়েছে।
তুষির মতে, দেশের অধিকাংশ সিনেমার গল্প এখনো পুরুষকেন্দ্রিক। সময়ের সঙ্গে নারীকেন্দ্রিক গল্প ও চরিত্রের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে নারী শিল্পীদেরও নিজেদের যোগ্যতা ও অভিনয় দিয়ে প্রমাণ করতে হবে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।
এদিকে ‘আন্ধার’ সিনেমার মুক্তি পিছিয়ে আগামী বছরের ২৬ মার্চ নির্ধারণ করায় মন খারাপ হয়নি তুষির। বরং প্রযোজকের সিদ্ধান্তে খুশি তিনি। তাঁর মতে, একটি সিনেমার পোস্টপ্রোডাকশন, প্রচার, বিপণন ও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট সময় প্রয়োজন। তাড়াহুড়া করে সিনেমা মুক্তি দিলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
কাজের মধ্য দিয়ে এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন তুষি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থী তাঁকে বলেছিলেন, ‘আই লাভ ইউ, তুষি আপু। আমি আপনার মতো অভিনয়শিল্পী হতে চাই।’ শিক্ষার্থীর এই কথাকে নিজের পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন তিনি। পুরস্কারের চেয়ে ভালো কাজ ও চরিত্রের মধ্যে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করাকেই বেশি গুরুত্ব দেন তুষি। তাঁর লক্ষ্য, আরও পরিশ্রম করে অভিনয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করা এবং দর্শকদের সামনে বারবার নতুন রূপে হাজির হওয়া।