হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ PM BST সিলেট ২৭ বার পঠিত
হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

collected

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রুটসহ দূরপাল্লার সব গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটে জেলার বিভিন্ন যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে বুধবার এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিবহন মালিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করে বিরোধের সমাধান হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও বাস আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটছে।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের মতো বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বাস চলাচল করছিল বলে জানান তিনি।

আবু মঈন চৌধুরীর দাবি, গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখেন। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই পক্ষের বৈঠক হয়। সেখানে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হলে আটকে রাখা বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে বিরোধের অবসান হয়নি বলে দাবি হবিগঞ্জের পরিবহন মালিকদের। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু করলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে। বাসগুলো এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনার পরই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আবু মঈন চৌধুরী বলেন, তাঁরা পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাসগুলো নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ চান। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এর ফলে হবিগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অন্যদিকে হবিগঞ্জের পরিবহন মালিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম। তাঁর দাবি, বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল। এর মধ্যেই হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন।

আব্দুর রহিম বলেন, ওই ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর দাবি, শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই হবিগঞ্জের বাসগুলো আটকে রেখেছেন এবং এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে।

তিনি বলেন, বিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। দুই জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চলমান বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: