collected
রাজধানীর নভোথিয়েটারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে মেলাটি ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ বা ‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।
মেলায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রদর্শন করছে ‘শেপিং দ্য ফিউচার উইথ জুট ফাইবার: ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশন অব ইনোভেটিভ ম্যাটেরিয়ালস’ শীর্ষক একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য পাট ও পাটজাত অবশিষ্টাংশকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ও পরিবেশবান্ধব উপাদানে রূপান্তর করা। এর অংশ হিসেবে পাটকাঠিকে পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ায় বায়োচার ও অ্যাক্টিভেটেড কার্বনে রূপান্তরের প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
উদ্ভাবিত অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ব্যবহার করে ইলেকট্রোড উপাদান ও সুপার ক্যাপাসিটর তৈরির সম্ভাবনাও প্রকল্পে তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, এ ধরনের উপাদান ভবিষ্যতে শক্তি সংরক্ষণ ও গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মাভাবিপ্রবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও জুট পলিমার ন্যানোটেকনোলজি রিসার্চ গ্রুপের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার বলেন, পাটে থাকা মূল্যবান পলিমার সংগ্রহ করে উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন উপাদান তৈরি করা সম্ভব। পাটে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ সেলুলোজ এবং ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ লিগনিন রয়েছে। এসব উপাদান কাজে লাগিয়ে মূল্য সংযোজিত বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা যেতে পারে।
তিনি জানান, গবেষক দল ইতিমধ্যে পাট থেকে ন্যানো সেলুলোজ তৈরি করেছে এবং সেটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পাটের লিগনিন আহরণ ও প্রক্রিয়াকরণের কাজও এগিয়ে চলছে।
অধ্যাপক মাহবুবুল বাশার আরও বলেন, পাটকাঠি থেকে উচ্চ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন কার্বন তৈরি করা হয়েছে, যা শক্তি সংরক্ষণ ও গ্রিন এনার্জির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
তিনি বলেন, পাটের সেলুলোজ থেকে চিকিৎসা খাতেও বিভিন্ন ধরনের পলিমার তৈরি করা সম্ভব। পাটভিত্তিক এসব উপাদানের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে নতুন শিল্প গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত দলের সদস্যরা হলেন প্রভাষক মো. শাহাবুল হোসেন, সহকারী ব্যবস্থাপক মো. খাইরুল ইসলাম ও মো. আব্দুর রহমান।
গবেষক দলের আশা, অবশিষ্ট পাটকাঠিকে শক্তি সংরক্ষণে ব্যবহারযোগ্য উপাদানে রূপান্তরের এ উদ্যোগ দেশে সবুজ ও টেকসই প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।