collected
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অমান্য করে জামালপুরের মাদারগঞ্জে যমুনা নদী থেকে মহাবিপন্ন বাঘাআইড় মাছ শিকার ও প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মাদারগঞ্জ ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি সীমানাসংলগ্ন যমুনা নদীর অববাহিকা থেকে প্রতিদিন এসব মাছ ধরে স্থানীয় বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রম প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বালিজুড়ি বাজারে প্রায় প্রতিদিনই বড় আকারের বাঘাআইড় মাছ বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছের ওজন সাধারণত ৩০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। গত বৃহস্পতিবারও বাজারটিতে ৪৪ কেজি ওজনের একটি বড় বাঘাআইড়সহ বেশ কয়েকটি মাছ চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বাঘাআইড় মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
যমুনা নদীর অববাহিকায় মাছ শিকারে নিয়োজিত জেলেরা জানান, শীত মৌসুমে নদীতে বড় আকারের বাঘাআইড় মাছ বেশি পাওয়া যায়। ‘পাগলা বড়শি’ ও বিশেষ ধরনের জাল ব্যবহার করে এসব মাছ শিকার করা হয়। কয়েকজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, আইনগত নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে তাঁরা অবগত ছিলেন না। স্থানীয় আড়তদারেরা ভালো দাম দেওয়ায় তাঁরা এ মাছ শিকারে আগ্রহী হন।
জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে যমুনা নদীতে ১০০ থেকে ২০০ কেজি ওজনের বাঘাআইড় মাছ ধরা পড়ত। সেসব মাছ গরুর গাড়িতে করে বাজারে নেওয়া হতো। বর্তমানে মাছের আকার আগের তুলনায় ছোট হলেও শীত মৌসুমে নিয়মিতই এ মাছ ধরা পড়ছে বলে তাঁরা জানান।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর তফসিল-২ অনুযায়ী, বাঘাআইড় সংরক্ষিত ও মহাবিপন্ন বন্যপ্রাণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এ মাছ শিকার, কেনাবেচা, পরিবহন কিংবা নিজের হেফাজতে রাখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
জামালপুরের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক উন্নয়নকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘মহাবিপন্ন বাঘাআইড় শিকারের মধ্য দিয়ে আমাদের জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য এক বড় হুমকি। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাঘাআইড় বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত একটি প্রজাতি হওয়ায় এ মাছ ধরা ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে মাদারগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।