কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধে নতুন ফাটল, আতঙ্কে চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৮ PM BST খুলনা ২৮ বার পঠিত
কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধে নতুন ফাটল, আতঙ্কে চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ

collected

সাতক্ষীরার তালায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। জোয়ারের পানির চাপে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বালিয়া, তেঘরিয়া, শুভংকরকাটি ও শ্রীমন্তকাটি গ্রামের বাসিন্দারা।

গত শনিবার রাতে জোয়ারের পানির তীব্র চাপে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। বিলের মৎস্যঘেরের মালিকেরা বিষয়টি প্রথমে দেখতে পেয়ে দ্রুত গ্রামে ফিরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। পরে ঘুম থেকে উঠে নারী-পুরুষ ও শিশুরা ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে বাঁধের কাছে ছুটে যান। স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাঙা অংশটি সাময়িকভাবে মেরামত করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকানো হয়।

তবে বিপদ এখনো কাটেনি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের আরও দুটি স্থানে নতুন করে ফাটল ধরেছে। ফাটল দিয়ে পানি চুঁইয়ে বাঁধের ভেতরে ঢুকছে।

স্থানীয়রা জানান, চার দিন ধরে গ্রামের মানুষ পালা করে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন। দুর্বল স্থানগুলোতে মাটি দিয়ে বাঁধ শক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও উপকরণের অভাবে দীর্ঘ সময় এভাবে বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন, শনিবার রাতে সময়মতো ভাঙন ঠেকানো না গেলে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের লোনা পানিতে তলিয়ে যেত। নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ার পর কয়েক দিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ফোন করলেও কেউ এসে পরিদর্শন করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাঁধ ভেঙে গেলে বালিয়াসহ পাশের শুভংকরকাটি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাটি গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ মাছের ঘের ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান গাজী ও নাজমিন আক্তার জানান, প্রায় ১২-১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খনন শুরু হলে এলাকাবাসী সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদ খননের দাবি জানিয়েছিলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রথমে দুই দিন সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কাজ করার পর তা বন্ধ করে দেয়। পরে অন্যভাবে খনন করায় কপোতাক্ষ নদ তার আগের গতিপথ থেকে সরে বালিয়া গ্রামের জনবসতির কাছাকাছি চলে আসে বলে দাবি করেন তারা।

তাদের ভাষ্য, এতে বালিয়া অংশে নদের গভীরতা বেড়ে যায়। একই সময়ে এলাকায় টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় নদ আরও খরস্রোতা হয়ে ওঠে। কিন্তু ওই এলাকায় স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর জোয়ারের পানির চাপে টিআরএম সংযোগ খালের পাশে দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কৃষক ও ঘেরমালিকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বারবার লিখিত আবেদন, সভা ও মানববন্ধন করা হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি বলে জানান তারা।

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, বালিয়া গ্রামের বাঁধের একাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ এবং নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো এলাকা লোনা পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গ্রামবাসীর দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের পাশাপাশি কপোতাক্ষ নদের বালিয়া অংশ সিএস ম্যাপ অনুযায়ী পুনরায় খনন করে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, বালিয়া এলাকার বাঁধের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং এর আগে সরেজমিনে পরিদর্শনও করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে সেখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া গেলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বর্তমানে সারা দেশে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাঁধের কাজ করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: