collected
কুষ্টিয়ার মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় পাখিভ্যানের এক নারী যাত্রী ও চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের আমতলা মাদরাসার সামনে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের নওদা আজমপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে ও পাখিভ্যানচালক কামরুল ইসলাম (৪০) এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া সস্তিপুর এলাকার হাশেম আলীর স্ত্রী ভানুমতি (৫৫)। ভানুমতি ওই পাখিভ্যানের যাত্রী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুরগামী শ্যামলী এস আর পরিবহনের একটি বাস সদরপুর এলাকার আমতলা মাদরাসার সামনে একটি পাখিভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এতে পাখিভ্যানের যাত্রী ভানুমতি ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাখিভ্যানচালক কামরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা ওই সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সদরপুর মাদরাসার শিক্ষক শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ওই এলাকায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হতে হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে দ্রুত একটি স্পিড ব্রেকার স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় আমলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. রাকিবুজ্জামান জানান, বাসের ধাক্কায় পাখিভ্যানের এক নারী যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হন। গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়। নিহতদের মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের ওই অংশে যানবাহনের চলাচল বেশি থাকায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপারে ঝুঁকি তৈরি হয়। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পারাপারের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।