সংগৃহীত ছবি
সন্তান জন্মের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। সম্প্রতি স্বামী ভিকি কৌশলের সঙ্গে আম্বানিদের গণপতি উৎসবে যোগ দেন অভিনেত্রী। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শারীরিক গঠন নিয়ে নানা মন্তব্য শুরু করেন নেটিজেনদের একাংশ।
ক্যাটরিনার গর্ভাবস্থার আগের ও পরের ছবি পাশাপাশি দিয়ে অনেকে তার পরিবর্তিত শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ করেন। এমনকি কেউ কেউ অভিনেত্রীর ‘ক্যারিয়ার শেষ’ বলেও মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলে ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানি গায়ক ও অভিনেতা আলি জাফর।
ক্যাটরিনার সঙ্গে ২০১১ সালের ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন আলি জাফর। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বডিশেমিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নারীদের শরীর ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক মূল্যায়নের প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আলি জাফর জানান, এ ধরনের ঘটনা তার কাছে নতুন নয়। এর আগেও পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খানকে নিয়ে একই ধরনের ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন তিনি। এবার ক্যাটরিনার ক্ষেত্রেও একই অবস্থান নিয়েছেন এই অভিনেতা।
ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়ে আলি জাফর মূলত সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নারীদের শরীর, পোশাক ও জীবনযাপনকে অনেক সময় এমনভাবে দেখা হয়, যেন সেগুলো জনসমক্ষে বিচার-বিশ্লেষণের বিষয়। অথচ একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও শরীর নিয়ে বাইরের মানুষের এমন মন্তব্য করার অধিকার থাকা উচিত নয়।
আলি জাফর বলেন, সবারই নিজেদের মানসিকতা নিয়ে আত্মদর্শন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পুরুষদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবা উচিত। সমাজে পুরুষরা যে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন, তার কারণে অনেক সময় তারা নিজেদের তৈরি মানদণ্ড দিয়ে নারীদের বিচার করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, কোনো নারীর শরীর বা জীবনযাপন প্রচলিত কোনো কাঠামোর সঙ্গে না মিললেই তাকে হেয় করা অত্যন্ত অনুচিত। মানুষের প্রতি সহমর্মী হওয়া এবং অন্যের সমালোচনা না করার আহ্বানও জানান তিনি।
আলি জাফর সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণার পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, বিভিন্ন সময়ে সমাজে নারীদের সৌন্দর্য বিচারের ভিন্ন ভিন্ন মাপকাঠি তৈরি হয়েছে। একসময় নির্দিষ্ট শারীরিক গঠনকে সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। পরবর্তী সময়ে ‘জিরো ফিগার’ কিংবা পুরুষদের ‘সিক্স-প্যাক’ শরীরের মতো কিছু প্রবণতাও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
তিনি এসব ধারণাকে অবাস্তব ও অনেক ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, মানুষের শরীরকে নির্দিষ্ট একটি সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে আটকে রাখা উচিত নয়।
সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীরে স্বাভাবিকভাবেই নানা পরিবর্তন আসতে পারে। সেই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কটূক্তি বা বিদ্রূপ করা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিব্রতই করে না, বরং সমাজে শরীর নিয়ে অস্বাস্থ্যকর ধারণাকেও আরও শক্তিশালী করে—এমন বার্তাই নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন আলি জাফর।
ক্যাটরিনা কাইফের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে তার দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আসার কারণে। স্বামী ভিকি কৌশলের সঙ্গে গণপতি উৎসবে তার উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে মন্তব্য শুরু হয়।
তারকা হওয়ার কারণে ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় প্রায়ই জনসাধারণের আলোচনায় আসে। তবে আলি জাফরের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—তারকা হলেও একজন মানুষের শরীর ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করার বিষয়টি স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।
এর আগে মাহিরা খানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ট্রোলিংয়ের সময়ও আলি জাফর প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন। এবার ক্যাটরিনাকে নিয়ে একই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কথা বলে তিনি ফের বডিশেমিং ও অবাস্তব সৌন্দর্য-মানদণ্ড নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে তার বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই আলি জাফরের অবস্থানকে সমর্থন করছেন। ক্যাটরিনার শারীরিক পরিবর্তনকে কটাক্ষ করার পরিবর্তে একজন নতুন মায়ের প্রতি সহমর্মী হওয়ার আহ্বানই তার বক্তব্যের মূল বার্তা।