collected
মাগুরার শালিখা উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক গ্রাহকের নামে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার অস্বাভাবিক বিল প্রদর্শনের ঘটনায় চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আড়পাড়া শাখার উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিমকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মিটার রিডার তোরাব আলী, বিল সুপারভাইজার সিমা রানী রায় ও বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মহিতুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভুক্তভোগী গ্রাহক মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুন। তার প্রকৃত বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া শাখার উপব্যবস্থাপক রেজাউল করিম জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় অনুমোদিত লোডের ঘরে ৪২-এর পরিবর্তে ভুল করে একটি দীর্ঘ সিল নম্বর বসানো হয়। তিনি বলেন, প্রকৃত হিসাবে ২ কিলোওয়াটের ডিমান্ড চার্জ ৮৪ টাকা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভুল সংখ্যাটি ব্যবহারের কারণে ডিমান্ড চার্জের হিসাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ বিলের পরিমাণ ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা প্রদর্শিত হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি সামনে আসার পর তা যাচাই করা হয়েছে এবং মিটার ও বিলের তথ্য সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুলের জন্য দায়িত্ব নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপমহাব্যবস্থাপককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এত বড় অঙ্কের বিল প্রদর্শিত হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে বিলিং ব্যবস্থার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বিল সংশোধনের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।