মাত্র চার মাসের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্টার প্রতিযোগিতায় চুয়েটের ৪ শিক্ষার্থী

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ AM BST চট্টগ্রাম ৩০ বার পঠিত
মাত্র চার মাসের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্টার প্রতিযোগিতায় চুয়েটের ৪ শিক্ষার্থী

collected

ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা দিতে দিতে পড়াশোনার বাইরে নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের চার শিক্ষার্থী। সেই পরিকল্পনা থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। মাত্র চার মাসের প্রস্তুতিতে তাঁরা আন্তর্জাতিক মর্টার তৈরির প্রতিযোগিতার মূল পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এই চার শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) আয়োজিত ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কমপিটিশন ২০২৬’-এর মূল পর্বে অংশ নেবেন।

আগামী ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় একটি হোটেলে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য থেকে বাছাইপর্বে সেরা ৪০ দলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে চুয়েটের দলটি।

দলের চার সদস্য হলেন খন্দকার ফাহাদ আলম, সুমাইয়া বিনতে মান্নান, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও স্বরূপ চন্দ্র মোদক। তাঁদের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সানিউল হক, রূপম পোদ্দার, আমীর হামজা মাহমুদ এবং তৃতীয় বর্ষের মো. সাইজউদ্দিন ফরহাদ। সহযোগী সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না; তাঁরা দেশে থেকেই দলটিকে সহায়তা করবেন।

দলের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার, চুয়েট শাখার অনুষদ উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম।

নির্মাণকাজে সিমেন্ট, বালু ও পানি মিশিয়ে তৈরি ঘন মিশ্রণকে মর্টার বলা হয়। এটি ইট, পাথর বা কংক্রিটের ব্লককে একে অপরের সঙ্গে শক্তভাবে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

প্রতিযোগিতায় সিমেন্ট, বালু, পানি, অ্যাডমিক্সচার ও সম্পূরক সিমেন্ট উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে তৈরি মর্টারের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ প্রবাহক্ষমতা এবং ২০ শতাংশ স্থিতিশীলতার জন্য নির্ধারিত।

দলের সদস্যরা জানান, প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই ছিল তাঁদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিভিন্ন অনুপাতে উপকরণ মিশিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

দলের সদস্য স্বরূপ চন্দ্র মোদক বলেন, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত গবেষণাগারে সময় দিতে হয়েছে। একের পর এক পরীক্ষামূলক মিশ্রণ তৈরি এবং বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনার পর বিশ্বের সেরা ৪০ দলের মধ্যে জায়গা করে নেওয়াকে তিনি পরিশ্রমের সাফল্য হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভালো ফল করে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার প্রত্যাশাও জানান তিনি।

দলের উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার প্রতিষ্ঠার পর চুয়েট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছয়টি পুরস্কার পেয়েছে। তবে সেগুলো ছিল অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতা। এবার সরাসরি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। শিক্ষার্থীরা এবারও ভালো সাফল্য অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) কংক্রিট নির্মাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মানদণ্ড, কোড ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান তৈরি ও প্রচারে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশে ৩৫ হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: