Collected Photo
মিঠুন চক্রবর্তী—ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। তবে পর্দার সাফল্যের বাইরেও শূন্য থেকে নিজের জায়গা তৈরি করার সংগ্রামের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। সেই কঠিন সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি আজও যত্ন করে আগলে রেখেছেন অভিনেতা।
মিঠুন চক্রবর্তীর মুম্বাইয়ের বাড়ির এক্সক্লুসিভ সফরে সেই পুরোনো স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন তার ছেলে নমশি চক্রবর্তী। মিমো কটেজের ৪১ বছরের পুরোনো স্মৃতি, পরিবারের ২২টি পোষ্য কুকুরের জন্য সাজানো বাগানসহ বাড়ির নানা গল্পের পাশাপাশি বাবার অত্যন্ত কাছের একটি জিনিসও দেখিয়েছেন তিনি।
বাইরে থেকে দেখলে সেটি বহু বছরের পুরোনো, কিছুটা জীর্ণ একটি হলুদ গাড়ি। কিন্তু চক্রবর্তী পরিবারের কাছে এটি শুধুই একটি পুরোনো গাড়ি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মুম্বাইয়ে মিঠুনের জীবনের শুরুর দিকের সংগ্রামের স্মৃতি।
নমশি জানান, মুম্বাইয়ে আসার সময় তার বাবার নিজের কোনো থাকার জায়গা ছিল না। সেই সময় পুরোনো হলুদ ভক্সওয়াগেন বিটলই হয়ে উঠেছিল মিঠুনের আশ্রয়। প্রায় ১৫ দিনেরও বেশি সময় গাড়িটির মধ্যেই কাটিয়েছিলেন তিনি।
নমশির ভাষায়, মুম্বাইয়ে আসার পর মাথার ওপর নিজস্ব ছাদ না থাকায় ওই গাড়িটিই একসময় তার বাবার ঘর ও থাকার জায়গা হয়ে উঠেছিল।
সেই কারণে গাড়িটির প্রতি মিঠুনের আবেগ আজও অটুট। নমশি জানান, তার বাবা একসময় নিজেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, গাড়িটিও তার সঙ্গে থাকবে। সময়ের সঙ্গে গাড়িটি আর চলার অবস্থায় নেই। এমনকি সেটিকে সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানোও সম্ভব নয়।
তারপরও গাড়িটিকে পরিত্যক্ত হতে দেননি মিঠুন। প্রতিবছর গাড়িটির অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে সেটিকে গ্যারাজে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় মেরামত করান তিনি। যতটা সম্ভব খরচ করে গাড়িটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দেখার মতো অবস্থায় রাখার চেষ্টা করেন।
কারণ মিঠুনের কাছে এটি কোনো পুরোনো যানবাহন নয়; বরং জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের স্মারক। পরিবারের কাছেও তাই গাড়িটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
নমশি আরও জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ওই গাড়িতে মাত্র একবার বসেছেন। সেটিও ছিল বিশেষ একটি উপলক্ষে। বাবার জন্মদিনে একটি রিল শুট করার সময় গাড়িটির ভেতরে বসেছিলেন তিনি।
নমশির অনুমান, ভক্সওয়াগেন বিটলটির বয়স প্রায় ৫০ বছর। গাড়িটি যদি ১৯৭৬ সালের হয়ে থাকে, তাহলে এর বয়সের হিসাবও মিলে যায়। আর ১৯৭৬ সালটি মিঠুনের জীবনের জন্যও বিশেষ। কারণ ওই বছরই চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন তিনি।
ফলে পুরোনো হলুদ গাড়িটির দিকে তাকালেই মিঠুনের কাছে ফিরে আসে জীবনের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতি। যে সময় ছিল অনিশ্চয়তা, সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াইয়ের সময়। একসময় যে গাড়িটি তাকে মাথা গোঁজার আশ্রয় দিয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই মানুষটিই হয়ে ওঠেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ।
সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে মিঠুনের জীবন। এসেছে সাফল্য, প্রতিষ্ঠা, নিজের বাড়ি ও পরিবার। কিন্তু মুম্বাইয়ে সংগ্রামের সেই দিনগুলোর স্মৃতি তিনি হারিয়ে যেতে দেননি। তাই আজও বাড়ির আঙিনায় যত্নে রাখা সেই হলুদ ভক্সওয়াগেন বিটল তার কাছে শুধু একটি পুরোনো গাড়ি নয়—এটি তার জীবনের শুরুর অধ্যায়ের এক জীবন্ত স্মারক।