নন-ক্যাডারদের পদোন্নতিতে নতুন বিধিমালা, না চাইলে ‘অসদাচরণ’

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:০৯ PM BST ২৯ বার পঠিত
নন-ক্যাডারদের পদোন্নতিতে নতুন বিধিমালা, না চাইলে ‘অসদাচরণ’

collected

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বিধিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খসড়াটি নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি) মো. মোস্তফা জামান জানিয়েছেন, ক্যাডার ও নন-ক্যাডারদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে ৮০ নম্বরের শর্ত

খসড়া বিধিমালায় বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনের (এসিআর) গড় নম্বরের ভিত্তিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিগত পাঁচ বছর অথবা ফিডার পদে চাকরিকালের মধ্যে যেটি কম, সেই সময়ের ন্যূনতম গড় নম্বর ৮০ থাকার শর্ত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে গড় নম্বর ৬৯-এর নিচে হলে সেটিকে বিরূপ মন্তব্য হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।

তবে অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) ভোগরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতি পাবেন না। পদোন্নতিযোগ্য শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি দেওয়া গেলেও লিয়েন বা চলতি দায়িত্বের কারণে সৃষ্ট শূন্য পদে পদোন্নতির সুযোগ থাকবে না।

জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে যেসব বিষয় বিবেচনা করা হবে

প্রস্তাবিত বিধিমালায় পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কয়েকটি ধাপ রাখা হয়েছে। উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই পদ্ধতিতে পরে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের চেয়ে জ্যেষ্ঠতা পাবেন।

একই সময়ে দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে কমিটি বা কমিশনের সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হলে মেধাতালিকার ভিত্তিতে তাদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে। মেধাতালিকা না থাকলে বয়সের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

বয়সও একই হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের শিক্ষাবর্ষ এবং প্রয়োজন হলে ফলাফলের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।

মামলা বা বিভাগীয় অভিযোগ থাকলে পদোন্নতি স্থগিত

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগনামা দাখিল, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চার্জশিট দাখিল, ফৌজদারি মামলা দায়েরের সরকারি অনুমোদন বা গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি দেওয়া হবে না।

কোনো কর্মচারীর লঘুদণ্ড এক বছর এবং গুরুদণ্ড দুই বছর হলে দণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও দুই বছর তিনি পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না।

তবে বিভাগীয় মামলা, দুদকের মামলা বা ফৌজদারি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ধারণাগত জ্যেষ্ঠতাও পাবেন।

পদোন্নতি না নিলে হতে পারে শাস্তি

খসড়া বিধিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো—কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতির জন্য যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পদোন্নতি গ্রহণ না করলে সেটিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় অসদাচরণের জন্য লঘুদণ্ড হিসেবে তিরস্কার, পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত এবং মূল বেতনস্কেলের নিম্নতর ধাপে অবনমনের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

গুরুদণ্ডের মধ্যে রয়েছে নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমন, বাধ্যতামূলক অবসর এবং সরকারি চাকরি থেকে অপসারণ।

বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, বাড়তে পারে জটিলতা

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া প্রস্তাবিত বিধিমালা নিয়ে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, আগের বিধিমালা সংশোধন না করে নতুন করে বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে প্রশাসনে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং সরকারের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিধিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়ার পর কী কী বিধান চূড়ান্তভাবে রাখা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: