collected
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুমিল্লায় নিহত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় অপ্রতিমদের বাসায় যান এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম। সেখানে তরিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করে অপ্রতিমের বাবার সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস
ফোনালাপে ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গত চার দিন ধরে তিনি কোনো খাবার খেতে পারছেন না এবং স্যালাইন চলছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরিবারের পাশে থাকার কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘এটুকুই তো আমাদের সক্ষমতা। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন। আর কোনো বাবা-মায়ের সঙ্গে যেন এ ধরনের ঘটনা না হয়। এটা খুব মর্মান্তিক একটা বিষয়। ইনশাআল্লাহ আমি একদিন দেখা করব আপনাদের সঙ্গে।’
অপ্রতিমের বাবা ঘটনার যথাযথ বিচার প্রত্যাশা করেন। জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাদের প্রতিনিধিরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তাদের জানাতেও অনুরোধ করেন তিনি।
এর আগে শফিকুর রহমানের ফোন
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করে শোক ও সমবেদনা জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
যেভাবে ঘটে অপ্রতিমের মৃত্যু
১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর আর বাড়িতে ফেরেনি অপ্রতিম। পরে তার বাবা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের পাশে সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যা মামলায় চারজন গ্রেপ্তার
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অপর আসামি সিয়াম স্বীকারোক্তি দেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বিষয়গুলোও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।