রাশমিকার ‘ভাষা’ নিয়ে ট্রল, এবার দিলেন কড়া জবাব

Pinky Saha Pinky Saha ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ AM BST ২৪ বার পঠিত
রাশমিকার ‘ভাষা’ নিয়ে ট্রল, এবার দিলেন কড়া জবাব

Photo Collected

তেলেগু, কন্নড়, তামিল কিংবা হিন্দি—বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করছেন রাশমিকা মান্দানা। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা থেকে বলিউডে নিজের কাজের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শকের কাছেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। তবে একাধিক ভাষায় কাজ করার কারণে মাঝেমধ্যে তাঁর উচ্চারণ ও সংলাপ বলার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও ট্রলের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে।

এবার সেই সমালোচনা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাশমিকা। অভিনেত্রীর বক্তব্য, তিনি কোনো একটি ভাষার বিশেষজ্ঞ নন। বরং বিভিন্ন ভাষায় কাজ করতে গিয়ে প্রতিটি ভাষার সঙ্গে তাঁর আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই ভিন্ন ভাষায় কথা বলার সময় শেখার বিষয়টিকে তিনি স্বাভাবিকভাবেই দেখেন।

রাশমিকার মাতৃভাষা কোদাভা টাক। ভারতের কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলে এই ভাষার প্রচলন থাকলেও এই ভাষাকে কেন্দ্র করে বড় কোনো চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই তাঁকে একাধিক ভাষায় কাজ করতে হয়েছে।

২০১৬ সালে কন্নড় সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় রাশমিকার। পরে তেলেগু সিনেমায় কাজ করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। ‘গীত গোবিন্দম’, ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘সারিলেরু নিক্কেভারু’ ও ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের দর্শকদের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। এরপর ‘গুডবাই’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন তিনি। ‘অ্যানিমেল’ সিনেমার পর হিন্দি চলচ্চিত্রেও তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।

বিভিন্ন ভাষায় কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে রাশমিকা জানিয়েছেন, কোনো একটি ভাষাকে আঁকড়ে ধরে তাঁর ক্যারিয়ার তৈরি হয়নি। বরং কাজের সুযোগ এবং দর্শকের ভালোবাসাই তাঁকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় নিয়ে গেছে। তিনি বিভিন্ন ভাষার দর্শকের সঙ্গে তাঁদের নিজস্ব ভাষায় যোগাযোগের চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন।

অভিনেত্রীর মতে, ভিন্ন ভাষায় কথা বলার চেষ্টা শুধু ভাষা শেখার বিষয় নয়, এটি দর্শকের প্রতি সম্মান দেখানোরও একটি উপায়। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কোনো একটি ভাষাতেই নিজেকে ‘খুব ভালো’ বা বিশেষজ্ঞ মনে করেন না। অনেক ভাষায় কাজ করলেও প্রতিটি ভাষায় শতভাগ দক্ষ হওয়ার দাবি তাঁর নেই।

ভাষার উচ্চারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া ট্রল প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থানও স্পষ্ট। রাশমিকার বক্তব্যের সারকথা হলো, একাধিক ভাষায় কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিটি ভাষার উচ্চারণ সবসময় নিখুঁত রাখা সহজ নয়। শেখার চেষ্টা, পরিশ্রম এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।

রাশমিকার বহুভাষিক ক্যারিয়ারের সঙ্গে অবশ্য বাড়তি চাপও রয়েছে। একটি ভাষার দর্শক তাঁর কথা বলার ধরনে অভ্যস্ত হলেও অন্য ভাষায় অভিনয়ের সময় উচ্চারণে সামান্য পার্থক্যও দর্শকের নজরে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বিষয় নিয়ে দ্রুত মন্তব্য ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। রাশমিকার ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা একাধিকবার দেখা গেছে।

তবে এসব মন্তব্যকে নিজের কাজের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলতে দিতে চান না অভিনেত্রী। তাঁর কাছে সিনেমা মূলত একটি দলগত কাজ। একজন অভিনেতা নিজের চরিত্রে সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও একটি সিনেমার চূড়ান্ত ফল তৈরি হয় পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক, সংগীতশিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

বর্তমানে রাশমিকার হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি আলোচিত কাজ। বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে তাঁর নতুন সিনেমা নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি ‘মাইসা’ সিনেমায় ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এ ছাড়া এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবনভিত্তিক একটি সিনেমার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করার ফলে রাশমিকার ক্যারিয়ার এখন দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে সর্বভারতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত। ভাষা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ভিন্ন ভাষায় কাজ করার আগ্রহ এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির চেষ্টাকেই নিজের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: