রাউজানে পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়, ১২ পুলিশ সদস্য আহত

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪৫ PM BST চট্টগ্রাম ৩৪ বার পঠিত
রাউজানে পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়, ১২ পুলিশ সদস্য আহত

collected

চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় অপরাধীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হয়। এতে ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, রাউজান থানার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করে অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন মো. জানে আলম ওরফে ‘ডাকাত আলম’ এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে ‘আজিজ বস’। গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাইয়ের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে জানে আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালায় রাউজান থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম, মোহাম্মদ আজিজ, দিলদার হোসেন, মো. রুবেল, মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন এবং মো. বাঁচাসহ কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।

গুলিবিনিময়ের ঘটনায় এসআই মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. খোরশেদ আলম, এসআই মো. বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই মো. রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আহতদের রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অভিযানের একপর্যায়ে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আটক ব্যক্তির হেফাজত ও তার দেখানো জায়গা থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি এবং দুটি গুলি রাখার প্রসেস উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দিলদার ও পলাতক সহযোগীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, গুলিবিনিময়ে আহত পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আটক ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, কদলপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ডাকাতির প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: