রক্তদানের নামে প্রতারণা, জরুরি পোস্টকে টার্গেট করছে চক্র

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৯ PM BST ৪৩ বার পঠিত
রক্তদানের নামে প্রতারণা, জরুরি পোস্টকে টার্গেট করছে চক্র

collected

জরুরি মুহূর্তে রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন হলে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তা চান। এসব পোস্টে সাধারণত রোগীর হাসপাতাল, রক্তের গ্রুপ, প্রয়োজনীয় রক্তের পরিমাণ এবং যোগাযোগের নম্বর উল্লেখ করা হয়। তবে মানুষের এই অসহায় পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

একাধিক ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে রক্তদানের নামে প্রতারণার কয়েকটি অভিন্ন কৌশল পাওয়া গেছে। প্রথমে নিজেকে রক্তদাতা পরিচয় দিয়ে রোগীর স্বজনদের আস্থা অর্জন করা হয়। এরপর দূরত্বের অজুহাতে যাতায়াত খরচ দাবি করা হয়। সবশেষে বিকাশের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নাম ও ছদ্মনাম ব্যবহার করা বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করার কথা জানানো হয়েছে।

রক্তের গ্রুপভেদে অনানুষ্ঠানিক বাজারে দামের পার্থক্য তৈরি হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নেগেটিভ গ্রুপের রক্তদাতা পাওয়া কঠিন হওয়ায় রোগীর স্বজনদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সন্ধানীর কর্মী ইশতিয়াক জানান, দুর্লভ নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের জন্য রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে প্রতি ব্যাগ রক্তের বিপরীতে সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অর্থের কতটা প্রকৃত রক্তদাতার কাছে যায় এবং কতটা মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে থাকে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ইশতিয়াকের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি রক্তের পোস্টে রোগীর স্বজনেরা সাধারণত হাসপাতালের নাম, ওয়ার্ড নম্বর, রক্তের গ্রুপ, রোগীর শারীরিক অবস্থা, কত ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন এবং যোগাযোগের মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ করেন। রক্ত সংগ্রহের জন্য এসব তথ্য প্রয়োজনীয় হলেও প্রতারকেরা এগুলো ব্যবহার করে সম্ভাব্য শিকার সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে।

কোন রোগীর কতটা জরুরি ভিত্তিতে রক্ত প্রয়োজন, কত ব্যাগ রক্ত লাগবে কিংবা রোগীর পরিবার ঢাকার বাইরে থেকে এসেছে কি না—এসব তথ্য থেকে প্রতারকেরা পরিবারের অসহায়ত্ব ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে। ফলে জরুরি অবস্থায় থাকা রোগীর স্বজনদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা সহজ হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইশতিয়াক আরও জানান, ঢাকার বাইরে থেকে চিকিৎসা নিতে আসা পরিবারগুলোকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে দেখার অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীতে পরিচিতজন না থাকলে অনেক পরিবারের কাছে ফেসবুকই হয়ে ওঠে সহায়তা পাওয়ার প্রধান মাধ্যম। এ অবস্থায় অপরিচিত কেউ রক্ত দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁকে বিশ্বাস করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

রক্ত সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। ইশতিয়াকের বর্ণনায়, হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের আশপাশে এমন ব্যক্তিদের দেখা যায়, যাঁরা রোগীর স্বজনদের রক্তের প্রয়োজনের কথা শুনে এগিয়ে আসেন।

তাঁর অভিযোগ, রোগীর স্বজনদের সরকারি ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগে যাওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ‘এখানে রক্ত নেই’, ‘ওখানে দ্রুত পাওয়া যাবে’ কিংবা ‘আমাদের ডোনার আছে’—এ ধরনের কথা বলে তাঁদের প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে।

রক্তের জরুরি প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে এমন প্রতারণার অভিযোগ রোগীর স্বজনদের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে সংকটময় মুহূর্তে রক্তের ব্যবস্থা করতে গিয়ে যাতে কেউ আর্থিক প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য অপরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ও অর্থ দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: