কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: আসামির স্বীকারোক্তি, মাদকাসক্তির তথ্য

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৩ PM BST কুমিল্লা ১৮৪ বার পঠিত
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: আসামির স্বীকারোক্তি, মাদকাসক্তির তথ্য

collected

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫)। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবায় আসক্ত ছিলেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের দিনও তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজমিনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন সুমন। এ ঘটনায় তাঁকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সুমনের পারিবারিক জীবন সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য জানা গেছে। তাঁর ভায়রা যুবায়ের জানান, সুমনের ১৬ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। মাদকাসক্তি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁর স্ত্রী জেসমিন সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকেন। সুমন শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। সেখানে বসতঘরের আসবাবপত্রসহ একে একে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে দেন তিনি। বর্তমানে তিনি নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান যুবায়ের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন সুমন। দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে লালমাই থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে।

সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর আগে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান সুমন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরেন জান্নাতুল তাজমিন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানের সামনে একটি বাস থেকে নামেন তিনি। সেখান থেকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন।

পুলিশ জানায়, অটোরিকশাচালক সুমন তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর পাশের একটি মসজিদের পুকুরে গোসল করে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান সুমন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে চট্টগ্রামের অলংকার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ ঘটনায় সুমনকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: