ধানমন্ডিতে তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মারধর, এক মাসের কারাদণ্ড ভুক্তভোগীর দাবি

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ PM BST ঢাকা ৪৫ বার পঠিত
ধানমন্ডিতে তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মারধর, এক মাসের কারাদণ্ড ভুক্তভোগীর দাবি

collected

রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটপাতে যানবাহন চলাচলের পাশেই এ ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দুই পুলিশ সদস্যকে কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ও ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীত পাশে এ ঘটনা ঘটে।

এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানা (৪৮) নামের ওই ব্যক্তি মারধরের শিকার হন। পরে তাঁকে আটক করে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক ক্ষুব্ধ হয়ে গালাগাল করতে করতে ওই ব্যক্তিকে থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। এ সময় আশপাশে পথচারীদের ভিড় জমে। কেউ ঘটনাটি দেখছিলেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ওই ব্যক্তি এক তরুণীর গায়ে হাত দিয়েছেন। একপর্যায়ে এক পথচারী উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্যকে দেখিয়ে মারধরের শিকার ব্যক্তিকে তাঁদের হাতে তুলে দিতে বলেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ওই ব্যক্তিকে বসা অবস্থা থেকে দাঁড় করানো হয় এবং তাঁর মুঠোফোন নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। উত্তেজিত যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এরপর তিনি ওই ব্যক্তিকে আবারও থাপ্পড় মারেন। পুরো ঘটনা চলার সময় কাছেই দুই পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেয়ে তরুণীর স্বজনেরা নিজেরাই ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হন। একটি পোস্টে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সম্রাট শাহাদত নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রকাশিত ভিডিওটি ৪৬ লাখ বার দেখা হয়েছে, এতে ৬৪ হাজার প্রতিক্রিয়া পড়েছে এবং ১১ হাজার বার শেয়ার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী তরুণী মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ বা খারাপভাবে স্পর্শ করেছিলেন। ঘটনার পর তাঁকে ধরে কর্তব্যরত দুই পুলিশ সদস্যের কাছে নিয়ে গেলে তাঁরা ব্যক্তিটিকে নিতে অনাগ্রহ দেখান এবং তরুণীকে ধানমন্ডি থানায় গিয়ে মামলা করতে বলেন বলে তাঁর দাবি। ওই ব্যক্তির কাছে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি দায় স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে তরুণী তাঁর মামাকে ফোন করলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। এরপর পুলিশ এসে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।

ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে শহীদ আবদুল্লাহকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, তরুণীর শরীর স্পর্শ করার ঘটনায় অভিযুক্ত শহীদ আবদুল্লাহকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি তরুণীকে শ্লীলতাহানির কথা স্বীকার করায় এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের নীরব ভূমিকা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, উত্তেজিত জনতার মারমুখী আচরণের কারণে তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাননি। তবে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা যুবকও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ করেছেন। তাঁকে খুঁজছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

ওসি আরও জানান, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত। এমবিবিএস পড়ার সময় তাঁর এই সমস্যা শুরু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তাঁর বিয়ে হয়েছিল, তবে অনেক আগেই স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: