collected
বান্দরবানের রুমা উপজেলার বেথেল পাড়ায় দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ১ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ বীর রুমা জোন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রিজার্ভার থেকে পানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এর ফলে পাড়ার ছয় শতাধিক বাসিন্দার দীর্ঘদিনের পানি সংকট অনেকটাই লাঘব হয়েছে।
বেথেল পাড়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করত। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত স্থানীয় পানির উৎসগুলোর প্রবাহ কমে গেলে বাসিন্দাদের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার দূরের পাহাড়ি ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ পেরিয়ে পানি বহন করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্কদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হতো। ঝিরির পানিও শুকিয়ে গেলে সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠত।
স্থানীয়দের পানি সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয় সেনাবাহিনী। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এলাকা পরিদর্শনের সময় পাড়াবাসীর সমস্যার কথা জানতে পারেন। পরে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের দিকনির্দেশনায় রুমা জোনের উদ্যোগে ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেনাসদস্য ও স্থানীয় পাড়াবাসীর অংশগ্রহণ ও তত্ত্বাবধানে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য লাল লুঙ থাং বম বলেন, পাড়াবাসীর বিভিন্ন প্রয়োজনে সেনাবাহিনী পাশে থাকে। নতুন ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের ফলে দীর্ঘদিনের পানি সংকটে স্বস্তি এসেছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে পাড়াবাসীর পাশাপাশি পথচারীরাও প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করতে পারছেন।
রুমা জোনের পক্ষ থেকে উপজেলার অন্যান্য দুর্গম পাড়াতেও পানি সংকট কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আরথা পাড়ায় ওয়াটার পাম্প ও জেনারেটর, হ্যাপিহিল পাড়ায় ২ হাজার লিটার, চায়রাগ্র পাড়ায় ৫ হাজার লিটার এবং সালেম পাড়ায় ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ওয়াটার পয়েন্ট নির্মাণের কাজও করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রুমা জোনের জোন কমান্ডার মো. মেহেদী হাসান সরকার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী কাজ করছে। দুর্গম এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।