শাহরুখের সঙ্গে সিনেমা থেকে বাদ, ‘কেন’ জানেন না ঐশ্বরিয়া

Pinky Saha Pinky Saha ১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ AM BST ৪৬ বার পঠিত
শাহরুখের সঙ্গে সিনেমা থেকে বাদ, ‘কেন’ জানেন না ঐশ্বরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

একসময় বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন শাহরুখ খান ও ঐশ্বরিয়া রাই। ‘জোশ’, ‘মোহাব্বতে’ ও ‘দেবদাস’-এ তাঁদের পর্দার রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পেয়েছিল। বিশেষ করে ‘দেবদাস’ সফল হওয়ার পর দুজনকে একসঙ্গে আরও সিনেমায় দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই সময় একাধিক বড় প্রকল্পে তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার কথাও শোনা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত সেসব প্রকল্পের অনেকগুলোতে ঐশ্বরিয়াকে দেখা যায়নি।

পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জানিয়েছিলেন, শাহরুখের সঙ্গে কয়েকটি সিনেমায় কাজ করার কথা চললেও পরে হঠাৎ সেগুলো আর হয়নি। কেন তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও জানান অভিনেত্রী। সম্প্রতি সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিও ও প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবার ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সিমি গারেওয়ালের অনুষ্ঠান ‘রঁদেভু উইথ সিমি গারেওয়ালে’ ঐশ্বরিয়াকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, শাহরুখের সঙ্গে তাঁর পাঁচটি সিনেমায় কাজ করার কথা ছিল কি না। জবাবে অভিনেত্রী জানান, কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার আলোচনা চলছিল। কিন্তু পরে সেগুলো আর হয়নি এবং তাঁকে এর কারণ জানানো হয়নি।

ঐশ্বরিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি তাঁকে হতবাক ও আহত করেছিল। তবে কারও কাছে গিয়ে তিনি ‘কেন’ জানতে চাননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, কেউ যদি কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে নিজে থেকেই তা জানাবেন।

শাহরুখ-ঐশ্বরিয়ার সেই কথিত প্রকল্পগুলোর পূর্ণ তালিকা নিয়ে বিভিন্ন পুরোনো প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তবে ‘চলতে চলতে’ ও ‘বীর-জারা’র নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। ‘কাল হো না হো’র নামও কিছু প্রতিবেদনে এসেছে। ফলে পাঁচটি সিনেমার সম্পূর্ণ তালিকা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য এক নয়।

এর মধ্যে ‘চলতে চলতে’ নিয়ে তথ্য তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে শাহরুখের বিপরীতে প্রথমে ঐশ্বরিয়াকেই নেওয়া হয়েছিল। পরিচালক আজিজ মির্জা ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে এক দিন শুটিংও হয়েছিল। ‘প্রেম নগরিয়া’ গানটির শুটিংয়ের পর অবশ্য পরিকল্পনা বদলে যায় এবং ঐশ্বরিয়ার জায়গায় রানী মুখার্জি যুক্ত হন।

তখন ঐশ্বরিয়া ও সালমান খানের সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা ছিল। ‘চলতে চলতে’র শুটিং ঘিরে সালমানের উপস্থিতি ও কথিত কিছু ঘটনার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে এসব দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে।

ঐশ্বরিয়াকে সিনেমা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে শাহরুখ খান নিজেও কথা বলেন। ২০০৩ সালে ‘ইন্ডিয়া টুডে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছিলেন, কোনো অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ শুরু করার পর তাঁকে বদলে দেওয়া দুঃখজনক। ঐশ্বরিয়াকে বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে শাহরুখ বলেছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি ভুল করেছেন। একই সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে সে সময় ব্যবসায়িক কিছু কারণের কথাও উল্লেখ করেছিলেন এবং ঐশ্বরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা জানান।

‘বীর-জারা’ নিয়েও একসময় ঐশ্বরিয়ার নাম আলোচনায় ছিল বলে পুরোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিনেমাটিতে শাহরুখের বিপরীতে অভিনয় করেন প্রীতি জিনতা। ছবিটিও বড় সাফল্য পায়। তবে ঐশ্বরিয়া ও শাহরুখের জুটি আর পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় সেভাবে ফিরে আসেনি।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৬ সালে করণ জোহরের ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’-এ আবার একই সিনেমায় দেখা যায় দুজনকে। তবে এবার তাঁরা ছিলেন না মূল জুটি। ঐশ্বরিয়া অভিনয় করেন সাবার চরিত্রে, আর শাহরুখ স্বল্প উপস্থিতিতে তাঁর সাবেক স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করেন।

ফলে ‘দেবদাস’-এর পর তাঁদের জুটিকে ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেটি পূর্ণদৈর্ঘ্য একাধিক সিনেমায় আর বাস্তবায়িত হয়নি। আর ঐশ্বরিয়ার সেই পুরোনো বক্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বহু বছর আগের সেই অধ্যায়ই আবার আলোচনায় এসেছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: