সাইফের বোন সাবার কাঁধে হাজার কোটি টাকার ঐতিহ্যের দায়িত্ব

Pinky Saha Pinky Saha ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ PM BST ৫১ বার পঠিত
সাইফের বোন সাবার কাঁধে হাজার কোটি টাকার ঐতিহ্যের দায়িত্ব

ছবি: সংগৃহীত

বলিউড তারকা সাইফ আলী খান ও সোহা আলী খান অভিনয়ের কারণে পরিচিত হলেও তাঁদের বোন সাবা আলী খান বরাবরই থেকেছেন প্রচারের আড়ালে। অভিনয়কে পেশা হিসেবে না বেছে পরিবারের ঐতিহ্য ও সম্পদের দেখভালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। ভোপালের নবাব পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ও ঐতিহ্যের একটি বড় অংশের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সাবা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছেন সাবা পতৌদি। জানিয়েছেন, তাঁর বাবা ও ভারতের সাবেক ক্রিকেট তারকা মনসুর আলী খান পতৌদি পরিবারের ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সাবার মতে, এই দায়িত্ব শুধু বিপুল সম্পত্তি দেখভালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ধর্মীয় ঐতিহ্য, জনকল্যাণ ও মানুষের সেবার বিষয়ও জড়িত।

সাবা বর্তমানে ‘আওকাফ-এ-শাহী’ ট্রাস্টের মুতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভোপালের নবাব পরিবারের সঙ্গে যুক্ত এই ট্রাস্টের অধীনে থাকা বিভিন্ন সম্পদ, মসজিদ ও স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা তাঁর দায়িত্বের অংশ। তাঁর দাদি সাজিদা সুলতান ও বাবা মনসুর আলী খান পতৌদিও এই ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ভোপালের এই ট্রাস্টের কার্যক্রমের সঙ্গে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থাও যুক্ত রয়েছে বলে জানান সাবা। ভোপাল থেকে হজ করতে যাওয়া মানুষের থাকার সুবিধার জন্য ঐতিহ্যবাহী অতিথিশালা বা রুবাত পরিচালনা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন কাজ করতে হয়।

পরিবারের সম্পত্তির আর্থিক মূল্য ১ হাজার কোটি রুপির বেশি কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সম্মতি জানান সাবা। তবে এই অর্থ ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয় না বলেও তিনি জানান। ট্রাস্টের সম্পদ ও অর্থ মূলত ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজেই ব্যবহৃত হয়।

পুরুষপ্রধান পরিবেশে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন সাবা। তাঁর ভাষ্য, পরিবারের এই উত্তরাধিকার সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর বাবা মনে করতেন, মেয়েই এই দায়িত্বের জন্য বেশি উপযুক্ত।

এদিকে ভোপালের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে কয়েকটি মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। এসব জটিলতার নিষ্পত্তি হলে নারী ও শিশুদের কল্যাণে স্কুল, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং গ্রামীণ নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার মতো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সাবার।

নবাব পরিবারের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সাবার পরিবার। তাঁর দাদি সাজিদা সুলতান ছিলেন ভোপালের শেষ শাসক নবাব হামিদুল্লাহ খানের মেয়ে। পরবর্তী সময়ে সাজিদা সুলতানের বিয়ে হয় পতৌদির নবাব ইফতিখার আলী খানের সঙ্গে। তাঁদের ছেলে মনসুর আলী খান পতৌদি ছিলেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে বিয়ে করার পর তাঁদের তিন সন্তান সাইফ, সোহা ও সাবা। এভাবেই ভোপাল ও পতৌদি—দুই নবাব পরিবারের ঐতিহ্য একসূত্রে এসে যুক্ত হয়েছে সাবাদের পরিবারে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: