collected
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র রাঙামাটির সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। পাশাপাশি নতুন করে পর্যটকদের সাজেকে প্রবেশ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ পালন করা হচ্ছে। এর ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহারকারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা এই অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে অবরোধের কারণে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান মো. ইয়াছিন আরাফাত জানান, শনিবার সরকারি নিরাপত্তা বহর বা স্কর্টের সঙ্গে ছোট-বড় গাড়ি ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছে। এসব যানবাহনে সহস্রাধিক পর্যটক সেখানে পৌঁছেছেন।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সহসভাপতি চাই থোয়াই চৌধুরী জয় বলেন, বর্তমানে সাজেকে সহস্রাধিক পর্যটক অবস্থান করছেন। অবরোধের কারণে সকালে স্কর্টের সঙ্গে পর্যটকেরা সাজেক ত্যাগ করতে পারেননি। তবে দুপুরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাঁদের সাজেক ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
নতুন পর্যটকদের সাজেকে প্রবেশের বিষয়ে বাঘাইহাট সেনাজোন পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলেও জানান চাই থোয়াই চৌধুরী জয়।
অবরোধের কারণে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাজেকে নতুন পর্যটক প্রবেশের বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অবরোধ কত দিন চলবে, তা নির্ভর করছে আয়োজকদের দাবি পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।