সারের দাবিতে আন্দোলন, মামলায় ৮ দিন জেল: আতঙ্কে ভূরুঙ্গামারীর কৃষক পরিবার

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:২২ PM BST রংপুর ৬৭ বার পঠিত
সারের দাবিতে আন্দোলন, মামলায় ৮ দিন জেল: আতঙ্কে ভূরুঙ্গামারীর কৃষক পরিবার

collected

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সারের দাবিতে আন্দোলনের ঘটনায় করা মামলায় আট দিন কারাভোগের পর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েকজন কৃষক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। কৃষকদের অভিযোগ, সার চাইতে গিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তার দাবি, তাকে অবরুদ্ধ করে মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গনাইরকুটি গ্রামের কৃষক আল-আমিন মোল্লা (৪৭) বলেন, তিনি শুধু নিজের জমির জন্য সার চাইতে গিয়েছিলেন। কোনো হট্টগোল বা মারামারি করেননি দাবি করে তিনি বলেন, এরপরও মামলায় আসামি হয়ে আট দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাঁর স্ত্রী রওশান আরা বেগম জানান, স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের দেড় বিঘা জমিতে আমন ধান রয়েছে। মামলা ও আদালতের খরচে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে।

একই মামলায় আট দিন কারাভোগ করা কৃষক সুরুজ মিয়ার অভিযোগ, তিনি সার নিতে গেলেও মারামারি বা গোলযোগের সময় সেখানে ছিলেন না। সারও পাননি, বরং পুলিশ তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। জামিন ও মামলার খরচ চালানো নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকায় বিএডিসি সার ডিলার আমজাদ হোসেনের মেসার্স আফি সার ঘরে সার বিতরণের সময় হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।

ওই রাতেই কৃষি কর্মকর্তা বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। পরে পুলিশ গনাইরকুটি গ্রামের সুলতান মিয়া, সুরুজ মিয়া ও আল-আমিনকে আটক করে। সুলতান মিয়াকে পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও সুরুজ মিয়া ও আল-আমিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

আতঙ্কে কৃষক পরিবার

মামলার পর গনাইরকুটি গ্রামের অনেক কৃষক আতঙ্কে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি থাকায় অনেকে রাতে বাড়িতে থাকছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শিউলি বেগম জানান, তাঁর স্বামী সুলতান মোল্লার নাম মামলায় আসার পর থেকে তিনি বাড়িতে থাকছেন না। তাঁদের জমিতে আমন ধান ও বেগুন চাষ করা হয়েছে। স্বামী বাড়িতে না থাকায় কৃষিকাজ পরিচালনাতেও সমস্যায় পড়েছেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে গ্রামের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তা বদলি, তদন্ত চলছে

মামলার বাদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বারকে পরে কৃষি বিভাগ বদলি করেছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, সার বিতরণের সময় বিক্ষোভের একপর্যায়ে তাঁকে ও অন্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। এ ঘটনায়ই তিনি মামলা করেছেন বলে জানান।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, মামলার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের কাজ চলছে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। উপজেলা প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণের জন্য কাজ করছে। যারা দোষী নন, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: