শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই লোকসানে রয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাবে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের একাধিক প্রতিষ্ঠান লোকসান করেছে। লোকসান কমিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক করতে উৎপাদন বাড়ানো ও নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই লোকসানে চলছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। আজ মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অধীন তিনটি করপোরেশনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক হিসাব উপস্থাপন করা হয়।
কমিটিতে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) অধীন চালু থাকা নয়টি চিনিকলের মধ্যে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ছাড়া বাকি আটটিই গত অর্থবছরে লোকসান করেছে। একই করপোরেশনের অধীন রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানিও লোকসানের মুখে রয়েছে।
বিএসএফআইসির অধীন ১৬টি প্রতিষ্ঠানের সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে আয় হয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ আয়-ব্যয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫৪ কোটি টাকা।
এর আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে করপোরেশনটির আয় ছিল ৮৯৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ফলে আগের বছরের তুলনায় আয় বাড়লেও ব্যয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য ছিল।
সার কারখানাগুলোতেও বড় লোকসান
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটি গত অর্থবছরে লোকসান করেছে। লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সবকটিই সার কারখানা।
বৈঠকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিসিআইসি প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোকসান করেছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি সার কারখানাগুলোর আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
ইস্পাত ও প্রকৌশল খাতেও একই চিত্র
বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) অধীন নয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি গত অর্থবছরে লোকসানে ছিল।
তবে তিনটি প্রতিষ্ঠান লাভ করেছে। চট্টগ্রামের প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৬৩ কোটি টাকা, গাজীপুরের ঢাকা স্টিল ওয়ার্কস লিমিটেড ৫ কোটি টাকা এবং চট্টগ্রামের জিইএম কোম্পানি লিমিটেড ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা লাভ করেছে।
অন্যদিকে ন্যাশনাল টিউবস, বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি, এটলাস বাংলাদেশ, ইস্টার্ন টিউবস, ইস্টার্ন কেব্লস ও গাজী ওয়্যারস লিমিটেড লোকসান করেছে।
লোকসান কমাতে নতুন উদ্যোগের সুপারিশ
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লোকসানে থাকা চিনিকলগুলোতে বায়োপ্রোডাক্ট তৈরি করে কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা যায়, সে বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়কে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
এ ছাড়া সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। বৈঠকে আবদুস সালাম আজাদ, কাজী রফিকুল ইসলাম, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, মনজুর এলাহী, এনামুল হক ও মাসুদ সাঈদী উপস্থিত ছিলেন।