ছবি: সংগৃহীত
সহকর্মীদের সাফল্যে প্রশংসা কিংবা নিজের অনুভূতি প্রকাশে অনেক সময় তারকারা সতর্ক থাকেন। তবে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কিছু অনুভূতি অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী সোনালী কুলকার্নি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৯৭ সালে অভিনেত্রী টাবু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ায় তাঁর মধ্যে ঈর্ষার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল।
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোনালী বলেন, ১৯৯৬ সালের ‘মাচিস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য টাবু শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি ঈর্ষান্বিত হয়েছিলেন। কারণ, সে সময় তাঁর নিজেরও জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল।
সোনালীর ভাষায়, তাঁর সেই অনুভূতির পেছনে মূলত ঈর্ষাই কাজ করেছিল। তিনি মনে করতেন, জাতীয় পুরস্কার পাওয়া অভিনয়জীবনে বড় সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
তবে কয়েক বছর পর নিজের ক্যারিয়ারেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের স্বীকৃতি পান সোনালী। ২০০২ সালে ৪৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মারাঠি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চৈত্র’-এর জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এরপরও নিজের অভিনয়জীবন নিয়ে আরও বড় স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
সোনালী বলেন, তাঁর এখনো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। অভিনয়ের মাধ্যমে দেশকে গর্বিত করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। আর সেই কারণেই টাবুর অভিনয় দেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তাঁর মধ্যে।
টাবুর সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার একটি স্মৃতিও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন সোনালী। সে সময় মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে ‘মিশন কাশ্মীর’ সিনেমার শুটিং করছিলেন তিনি। একই সময়ে সেখানে ‘চাঁদনি বার’ সিনেমার শুটিং করছিলেন টাবু।
সোনালী জানান, ফিল্ম সিটির সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে টাবুর জন্য অপেক্ষা করেছিলেন তিনি। পরে টাবুকে দেখে একজন ভক্তের মতো তাঁর সঙ্গে পরিচয় করেন এবং প্রশংসা করেন। টাবুও ধৈর্য ধরে তাঁর কথা শোনেন এবং ধন্যবাদ জানান। সেই অভিজ্ঞতা সোনালীকে বুঝিয়েছিল, বড় তারকারাও ব্যক্তিগত আচরণে কতটা সাধারণ ও মানবিক হতে পারেন।
শুধু টাবুই নন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সঙ্গেও একটি আনন্দের স্মৃতি শেয়ার করেছেন সোনালী। এক দীপাবলিতে ঐশ্বরিয়ার পোশাকের প্রশংসা করেছিলেন তিনি। জবাবে ঐশ্বরিয়া আনন্দের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, পোশাকটি তাঁর নিজেরই ডিজাইন করা। সহকর্মীদের এমন স্বাভাবিক ও আন্তরিক আচরণ তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানান সোনালী।
বহু ভাষার সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া সোনালী কুলকার্নিকে সামনে তেলেগু সিনেমা ‘দ্য প্যারাডাইস’-এ দেখা যাবে। নানি অভিনীত সিনেমাটি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।