ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ, মাঠে ৫ প্রার্থী

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৭ PM BST রংপুর ১৫৩ বার পঠিত
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ, মাঠে ৫ প্রার্থী

collected

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করায় ভোটারদের মধ্যেও বেড়েছে আগ্রহ। শহরের অলিগলি, হাটবাজার ও পাড়া-মহল্লায় এখন আলোচনার প্রধান বিষয় নির্বাচন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, মিছিল ও গণসংযোগে সরব হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকা। বিভিন্ন মোড়ে শোভা পাচ্ছে রঙিন ও সাদা-কালো পোস্টার। পাশাপাশি মাইকিং ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।

প্রার্থীরা দিন-রাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন। তাঁদের প্রচারণায় এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাট সংস্কার, কৃষি ও নাগরিক সেবার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য থাকাকালে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শুরু করা উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করার বিষয়টিও প্রচারণায় উঠে আসছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি সদর উপজেলা ও পৌরসভাকেন্দ্রিক হওয়ায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজর রয়েছে এ নির্বাচনের দিকে। চায়ের দোকান, বাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রার্থীদের যোগ্যতা, রাজনৈতিক অবস্থান এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভোটারদের মধ্যে এখন প্রধান প্রশ্ন, কে হবেন এ আসনের নতুন সংসদ সদস্য।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন।

ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, বটগাছ প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

প্রতীক বরাদ্দের পর বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন ভোটারদের কাছে এলাকার অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ শেষ করা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেনসহ অন্য প্রার্থীরাও নতুন নেতৃত্ব ও সুশাসনের অঙ্গীকার তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রচারণার প্রাণবন্ত পরিবেশে তাঁরা সন্তুষ্ট। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সততার সঙ্গে ভূমিকা রাখবেন, এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে চান তাঁরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রফিকুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং বিমানবন্দর পুনরায় চালুর মতো বড় প্রকল্পের কাজ শুরু করে গেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, নির্বাচিত প্রতিনিধি চলমান উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন এবং জাতীয় সংসদে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর হাসান তানু বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সব ধর্ম ও মতের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন। তাঁর প্রত্যাশা, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

তরুণ বাসিন্দা রাশেদুল হাসান তন্ময় জানান, কয়েক দিন ধরে শহরের অলিগলি ও মোড়গুলো নির্বাচনী ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর মাইকিং ও প্রচারণা চলছে। চায়ের দোকানগুলোতেও গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

এদিকে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি বুথে ইভিএম অথবা ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চলবে আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: