ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়ার আসরে অভিযান, চার পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ AM BST রংপুর ৩০ বার পঠিত
ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়ার আসরে অভিযান, চার পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

collected

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে টাকার বিনিময়ে তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে জুয়ার আসরে অভিযান চালানোর সময় ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করা হয়। পরে গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার একটি টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়ায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মূল ভবনের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাস দিয়ে জুয়া খেলছেন।

খবর পেয়ে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা কয়েকজন সদস্য ধাক্কাধাক্কি করে পালানোর চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানার ডান হাতের আঙুল ভেঙে যায়। পরে পুলিশ ধাওয়া করে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।

অভিযানের সময় আরও দুই পুলিশ সদস্য পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

অভিযানের সময় ঘটনাস্থল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ ৫০ টাকা, পাঁচ সেট তাস এবং একাধিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের পাশ থেকে চারটি মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারায় করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পালকে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সুজিত কুমার পাল বলেন, আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ বা অন্য কারও ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: