ব্রেকিং

ভারতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে বাংলাদেশে রান্নার এলপিজি, নির্ধারিত দামও মানছে না বাজার

Sumon Biswas Sumon Biswas ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৭ PM BST ৬০ বার পঠিত
ভারতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে বাংলাদেশে রান্নার এলপিজি, নির্ধারিত দামও মানছে না বাজার

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে রান্নায় ব্যবহৃত এলপিজির নির্ধারিত দাম বেশি। দেশে প্রতি কেজি এলপিজির সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১৫৩ টাকা, যেখানে কলকাতায় তা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৭ টাকা। নির্ধারিত দামের চেয়েও বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে রান্নায় ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশে প্রতি কেজি এলপিজির নির্ধারিত দাম ১৫৩ টাকা। বিপরীতে ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম প্রায় ৮৭ টাকা। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও এলপিজির নির্ধারিত দাম বাংলাদেশের তুলনায় কম।

দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে সংস্থাটির নির্ধারিত দাম বাস্তবে বাজারে কার্যকর হচ্ছে না। সর্বশেষ নির্ধারণ অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু রাজধানী ঢাকায় সেটিই বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

ফলে একদিকে সরকারি নির্ধারিত মূল্যই প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বেশি, অন্যদিকে সেই নির্ধারিত মূল্যও বাজারে কার্যকর হচ্ছে না। এতে এলপিজি ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষকে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

প্রায় এক কোটি গ্রাহক

দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করেন। এর প্রায় ৮০ শতাংশই গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা ১৫ লাখ টনের বেশি।

২০১৫ সালের পর থেকে বাসাবাড়িতে নতুন করে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলো মূলত আমদানির মাধ্যমে দেশের এলপিজির চাহিদা পূরণ করে।

আদালতের নির্দেশে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে মাসে মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এর উদ্দেশ্য ছিল ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে রান্নার গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।

সর্বশেষ গত রোববার এলপিজির দাম নতুন করে নির্ধারণ করে বিইআরসি। এতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়।

সরবরাহ সংকটে বাড়ছে বাজারদর

মোহাম্মদপুরের হাউজিং লিমিটেড এলাকায় এক খুচরা বিক্রেতা জানান, এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। দিনে ৩০টি সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৫টি। বর্তমানে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা।

রাজধানীর মিরপুরের বেসরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদুর রহমান জানান, তার পরিবারে মাসে দুটি ১২ কেজির সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি তিনি একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকায় কিনেছেন।

তার মতে, সরকারি সংস্থাগুলো যদি নির্ধারিত দাম কার্যকর করতে না পারে, তাহলে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

কলকাতায় কেজিপ্রতি প্রায় ৮৭ টাকা

ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের (আইওসিএল) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে এলপিজির দাম ভিন্ন। পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শহর কলকাতায় ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা দাম ৯৬৮ রুপি।

হিসাব অনুযায়ী, কলকাতায় প্রতি কেজি এলপিজির দাম দাঁড়ায় ৬৮ দশমিক ১৭ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৭ টাকা। দিল্লি ও মুম্বাইয়ে এই দাম আরও কম।

আইওসিএলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, গত জুন থেকে বর্তমান মূল্য কার্যকর রয়েছে এবং এই মূল্যের মধ্যে কোনো ভর্তুকি নেই।

পরিবহন ব্যয়কে দায়ী করছে বিইআরসি

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে পরিবহন ব্যয়কে উল্লেখ করেছেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তার মতে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এলপিজির দাম সরাসরি তুলনা করা কঠিন। কারণ ভারতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এলপিজি বিক্রি করে এবং তাদের অবকাঠামোগত সক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি।

তিনি জানান, মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে এলপি গ্যাস কোম্পানিগুলোর জমি রয়েছে। সেখানে টার্মিনাল নির্মাণ হলে বড় জাহাজে এলপিজি আমদানি করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর, বাগেরহাটের মোংলা ও টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় বড় মজুতাগার তৈরির সুযোগ রয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অবকাঠামো গড়ে তুলতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে। এরপর পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় কমলে এলপিজির দামও প্রতিবেশী দেশগুলোর পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বর্তমান বাস্তবতায় বাড়তি দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে এলপিজি ব্যবহারকারী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে রান্নার গ্যাসের এই বাড়তি ব্যয় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: