সংগৃহীত ছবি
ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে তারকাখ্যাতির পাশাপাশি বিপুল সম্পদের মালিকও হয়েছেন একাধিক অভিনয়শিল্পী। ২০২৬ সালের এম৩এম হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে ভারতীয় অভিনেতাদের সম্পদের হিসাবেও উঠে এসেছে সেই চিত্র। তালিকায় বলিউড ও দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার তারকাদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
হুরুনের হিসাব অনুযায়ী, শীর্ষে রয়েছেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপি। যদিও গত বছরের তালিকায় শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। অর্থাৎ এক বছরে তাঁর সম্পদের হিসাব কমেছে প্রায় ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। এরপরও ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।
১. শাহরুখ খান — ১০ হাজার কোটি রুপি
তালিকার শীর্ষে থাকা শাহরুখ খানের সম্পদের বড় অংশ শুধু অভিনয় থেকে আসেনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ব্যবসা এবং নাইট রাইডার্স স্পোর্টসের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিকানার পাশাপাশি ক্রিকেটভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত শাহরুখ। ফলে তাঁর আর্থিক সাম্রাজ্যে সিনেমার পারিশ্রমিকের পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিনিয়োগেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।
২০২৩ সালে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডানকি’ দিয়ে বড় পর্দায় আলোচনায় আসার পর নতুন সিনেমায় তাঁকে দেখা যায়নি। আগামী ডিসেম্বরে ‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখকে দেখা যাওয়ার কথা। এতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন মেয়ে সুহানা খান।
২. নাগার্জুন — ৫ হাজার কোটি রুপি
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তারকা নাগার্জুন আক্কিনেনি। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি রুপি।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড তাঁর সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অন্নপূর্ণা স্টুডিওস দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রতিষ্ঠান। চলচ্চিত্রের বাইরেও বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ রয়েছে তাঁর।
৩. অমিতাভ বচ্চন — ৪ হাজার কোটি রুপি
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি রুপি।
অমিতাভের ক্ষেত্রে এবারের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় সম্পদের হিসাবের বড় পরিবর্তন। ২০২৫ সালের তালিকায় তাঁর সম্পদ ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৬৩০ কোটি রুপি। এক বছর পর সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার কোটিতে।
অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন, বিনিয়োগ ও রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
৪. সালমান খান — ৩ হাজার কোটি রুপি
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন সালমান খান। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি রুপি।
অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট ও ‘বিইং হিউম্যান’ ব্র্যান্ড তাঁর আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ভারতের অন্যতম পরিচিত তারকা হিসেবে নিজের ব্যবসায়িক পরিধিও তৈরি করেছেন সালমান।
৫. হৃতিক রোশন — ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি
পঞ্চম স্থানে রয়েছেন হৃতিক রোশন। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি।
২০২৫ সালের হিসাবে তাঁর সম্পদ ছিল প্রায় ২ হাজার ১৬০ কোটি রুপি। এক বছরে হিসাব অনুযায়ী তা বেড়েছে প্রায় ৩৪০ কোটি রুপি।
অভিনয়ের পাশাপাশি হৃতিকের ব্যবসায়িক পরিচয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যুক্ত ‘এইচআরএক্স’ ব্র্যান্ড। ফিটনেস ও লাইফস্টাইলকেন্দ্রিক এই ব্র্যান্ডের মাধ্যমে পর্দার বাইরেও ব্যবসায়িক পরিসর তৈরি করেছেন তিনি।
৬. অক্ষয় কুমার — ২ হাজার ৩০০ কোটি রুপি
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন অক্ষয় কুমার। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ কোটি রুপি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তিনি। নিয়মিত সিনেমায় কাজ করার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্টও তাঁর আয়ের অন্যতম ক্ষেত্র।
৭. আমির খান — ১ হাজার ৮০০ কোটি রুপি
তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছেন আমির খান। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৮০০ কোটি রুপি।
অন্য অনেক তারকার তুলনায় তুলনামূলক কম সিনেমায় অভিনয় করলেও প্রযোজক হিসেবে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। নিজের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক সাফল্যের সঙ্গেও তাঁর আর্থিক সম্পৃক্ততা রয়েছে।
৮. চিরঞ্জীবী — ১ হাজার ৭০০ কোটি রুপি
অষ্টম স্থানে রয়েছেন তেলুগু সিনেমার মেগাস্টার চিরঞ্জীবী। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৭০০ কোটি রুপি।
চার দশকের বেশি সময় ধরে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় কাজ করছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও তাঁর সম্পদের অংশ।
৯. ভেঙ্কটেশ দগ্গুবতী — ১ হাজার ৬৫০ কোটি রুপি
নবম স্থানে রয়েছেন তেলুগু তারকা ভেঙ্কটেশ দগ্গুবতী। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৬৫০ কোটি রুপি।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি প্রযোজনা ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। দগ্গুবতী পরিবারের সঙ্গে যুক্ত সুরেশ প্রোডাকশনস দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে পরিচিত প্রতিষ্ঠান।
১০. রাম চরণ — ১ হাজার ৪০০ কোটি রুপি
তালিকার দশম স্থানে রয়েছেন রাম চরণ। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৪০০ কোটি রুপি।
তুলনামূলকভাবে তরুণ এই অভিনেতার ক্যারিয়ারে ‘আরআরআর’ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক সাফল্যের মাধ্যমে ভারতের বাইরেও পরিচিতি পান তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন রাম চরণ।
শীর্ষ ১০ তারকার মোট সম্পদ ৩৩ হাজার ৩৫০ কোটি
হুরুনের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষ ১০ অভিনেতার আনুমানিক সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৩৩ হাজার ৩৫০ কোটি রুপি। এর মধ্যে শাহরুখ খানের একার সম্পদ ১০ হাজার কোটি রুপি।
শীর্ষ পাঁচে থাকা শাহরুখ খান, নাগার্জুন, অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান ও হৃতিক রোশনের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ কোটি রুপি।
তালিকায় বলিউডের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার তারকাদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। নাগার্জুন, চিরঞ্জীবী, ভেঙ্কটেশ ও রাম চরণ—এই চার তেলুগু তারকার সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৭৫০ কোটি রুপি।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের হুরুন তালিকায় ভারতের চলচ্চিত্রশিল্পে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা, ব্যবসা, ব্র্যান্ড ও বিনিয়োগ থেকে তারকাদের সম্পদ গড়ে ওঠার চিত্রও স্পষ্ট হয়েছে।