ছবি: সংগৃহীত
৮৩ বছর বয়সেও কাজ ও শুটিং নিয়ে ব্যস্ত বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাস নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। সম্প্রতি ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর এক পর্বে নিজের খাবারের অভ্যাসে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অমিতাভ জানান, সম্প্রতি ভাত ও ক্ষীর খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। স্বামীর এই খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে স্ত্রী ও অভিনেত্রী জয়া বচ্চন তাঁর জন্য তৈরি করেছেন বিশেষ এক খাবার—আমের ক্ষীর। অমিতাভের ভাষ্য, জয়ার তৈরি এই মিষ্টি তাঁর বেশ ভালো লেগেছে।
শোতে স্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান অমিতাভ। তিনি জানান, জয়া নিয়মিত ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ দেখেন। তাই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই তাঁর রান্নার প্রশংসা করেন অভিনেতা।
অমিতাভের ভাত বাদ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর বয়স বাড়ার সঙ্গে ভাত খাওয়া বন্ধ করা আদৌ প্রয়োজন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সাদা ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেটের উৎস। পালিশ করা সাদা চালে ফাইবারের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও সুষম খাদ্যতালিকায় অন্য উৎস থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া গেলে শুধু সাদা ভাত বাদ দেওয়ায় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হবেই—এমন নয়।
তবে সব ধরনের চালের পুষ্টিগুণ এক নয়। কম পালিশ করা বা বাদামি চালের মতো শস্যে তুলনামূলক বেশি ফাইবার, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়াম থাকতে পারে। ফলে কেউ দীর্ঘ সময় ভাত বা চালের খাবার কমিয়ে দিলে এসব পুষ্টি উপাদান অন্য খাবার থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিয়মিত ভাত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হঠাৎ করে তা বাদ দেওয়ার পর প্রথম দিকে কিছু মানুষের দুর্বলতা, শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতি কিংবা ক্ষুধা বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকলে শরীর ধীরে ধীরে নতুন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
এদিকে জয়ার তৈরি আমের ক্ষীর নিয়েও রয়েছে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি বিষয়। পাকা আমে স্বাভাবিকভাবেই চিনি থাকে। তাই ক্ষীর তৈরির সময় অতিরিক্ত চিনি কমানো বা না দেওয়ার মাধ্যমে এর মোট চিনি ও ক্যালরির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে জয়া ঠিক কী উপকরণ ব্যবহার করে অমিতাভের জন্য আমের ক্ষীর তৈরি করেছেন, তা জানা যায়নি।
অমিতাভ বচ্চনের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের এই বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাস্থ্যচর্চার অংশ। ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবার জন্য প্রয়োজনীয় বা উপযোগী—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন কাজ ও সামগ্রিক খাদ্যতালিকা বিবেচনা করেই খাবারের পরিবর্তন করা উচিত।