collected
১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে কেন্দ্র করে ঘোষিত আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের ৮ দফা ৯ বা ১০ দফায় পরিণত হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় তা এক দফায় রূপ নিতে পারে। আট দফা এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি সরকারকে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। দাবি পূরণ না হলে বিরোধী দল আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও বক্তব্য দেন তিনি।
চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ সফল হয়েছে দাবি করে জামায়াতের আমির বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীতে গত দুই দিনে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের হতাশ না হয়ে জনগণের দাবি বিবেচনার আহ্বান জানান।
বিরোধী দল কোনো দলীয় দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামেনি দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, তারা দেশের মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী জনসম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে। তিনি লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান।
স্বাগত বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হওয়ার কথা বলেন। তিনি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
চট্টগ্রামের ছয় দাবি, রংপুরে আরও দুই
১১–দলীয় জোটের চট্টগ্রামমুখী লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রাখা হয়েছিল। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হয়েছে। ফলে জাতীয় ইস্যুগুলোর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের একটি আঞ্চলিক দাবিও এবারের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জোটের নেতাদের ভাষ্য, উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবিকে বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে।
সামনে আরও দুই লংমার্চ
১১–দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে কর্মসূচি পালন করছে জোটটি।
জোটের সূত্র অনুযায়ী, লংমার্চ ও সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় রাজনৈতিক দাবিগুলো বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সরকারকে চাপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
লংমার্চ কর্মসূচিগুলো শেষ করে ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণাও দিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য। জোটের সূত্র বলছে, ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর পর আরও কয়েকটি বিভাগীয় শহরে লংমার্চ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।