ছবি: সংগৃহীত
একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের অন্যতম ছিলেন সাদিকা পারভিন পপি। মিষ্টি হাসি, অভিনয় দক্ষতা ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব দিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও দর্শকের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা অটুট রয়েছে। বর্তমানে স্বামী ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।
১৯৯৬ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পপির। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের প্রশংসা কুড়ান তিনি। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শুটিংসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পপির সঙ্গে প্রায়ই তাঁর মাকে দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মা-মেয়ের সম্পর্কের দূরত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পপির মা বিভিন্ন গণমাধ্যমে মেয়েকে নিয়ে অভিযোগও করেছেন।
এর মধ্যেই নিজের পারিবারিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন পপি। তিনি দাবি করেছেন, যাঁর হাত ধরে তিনি চলচ্চিত্রে এসেছিলেন, সেই নারীকে এখন তিনি ‘সৎমা’ হিসেবে পরিচয় দেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে পপি অভিযোগ করেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। কিন্তু তাঁর কষ্ট পরিবারের সদস্যরা যথাযথভাবে উপলব্ধি করেননি। বরং তাঁকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পপির ভাষ্য, পরিবারের চাহিদা কখনো শেষ হয়নি। তিনি যত বেশি উপার্জন করেছেন, তাঁদের প্রত্যাশাও তত বেড়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিকভাবে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।
অভিনেত্রী আরও দাবি করেন, সৎমার সংসার থেকে পাওয়া বিভিন্ন আঘাতের ধকল এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা কষ্ট ও অভিমান প্রকাশ পেয়েছে।
তবে পপির করা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ফলে অভিনেত্রীর বক্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।